মৃত্যুর ডাক
Horor story
18+warnings
শাড়ির আচলটা এক টানে খুলে ফেললাম। তখনি চোখের সামনে ভেসে উঠে সুমাইয়ার অর্ধ উলঙ্গ দেহ। আমি জানোয়ারের মত তার উপর ঝাপিয়ে পড়লাম। এক্ষুনি তাকে ভোগ করতে হবে। তার ধবধবে সাদা নরম দেহ অনেক আগ থেকেই ভোগ করার ইচ্ছে। আজ তা পূরণ হতে যাচ্ছে। বিছানায় তাকে ফেলেই তার উপর ঝাপিয়ে পড়লাম। ব্লাউজটা টেনে ছিড়ে ফেলি। ভিতরেরটাও টান দিয়ে খুলবো,তখনি জানালায় কারো দাঁড়িয়ে থাকার ইঙ্গিত পাই আমি। মাথাটা তুলে আমি জানালার দিকে তাকাই। সুমাইয়া বলল," কি হইছে রে। করবি না? "। আমি সুমাইয়ার কথায় কান না দিয়ে উঠে দাড়ালাম। ধীরে ধীরে জানালার দিকে এগিয়ে যাই। জানালাটা কাচের। তাই বাহিরে কিছু দেখতে পাচ্ছিনা। আস্তে করে জানালাটা খুলে বাহিরে তাকাতেই দেখি,কেও একজন দৌড়ে পালিয়ে গেলো।
তৎক্ষণাৎ আমি দৌড়ে দরজা খুলে বাহিরে আসলাম। ততক্ষণে পালিয়ে গেছে। কিছুই বুঝলাম না। রাত প্রায় ১ টা বাজে। এতো রাতে এই জায়গায় আসবে কে। যাইহোক আমি আবার রুমে চলে গেলাম। সুমাইয়া অর্ধ উলঙ্গই শুয়ে আছে। আমি আবার ওর গায়ের দিকে উঠতে যাবো,তখনি আবার জানালায় সেম শব্দ। আচমকা জানালার দিকে নজর দিয়ে ফেলি আমি। আর দেখতে পাই, একটা বাচ্চা ছেলে জানালায় দাঁড়িয়ে আছে।বয়স ৫ বা ৬ ছুঁই ছুঁই। তার মুখ খুবি নিষ্পাপ। আর দেখে মনে হচ্ছে সে কান্না করছে। সুমাইয়া এইবার বিরক্ত হয়ে আমাকে ধাক্কা দিয়ে উঠে যায়। আমি সুমাইয়ার দিকে তাকাতেই সুমাইয়া বলল,
- তুই কি বা* করতে এসেছিস। কিছুই করছিস না। আমি চলে যাচ্ছি বাসায়।
- দাড়া, তোরে সারারাতের জন্য ২ হাজার টাকায় ভাড়া করেছি। এখন মাত্র ১ টা বাজে। এখনি যাবি কেন। আর জানালায় এই বাচ্চাটা কে। তোর সাথে এসেছে?
- কই বাচ্চা। মদ কি বেশি খেয়ে ফেলছিস?
সুমাইয়ার কথা শুনে হতভাগ হয়ে গেলাম। আমি আবার জানালায় তাকিয়ে দেখি কেওই নাই। সুমাইয়াকে বললাম,
-এইমাত্র একটা বাচ্চা ছিল যে, দেখিস নি?
- সর তো? কিসের বাচ্চা। আর ঘড়ি দেখ,এখন ভোর ৪ টা বাজে। রাত শেষ,আমি গেলাম।
আমার গেঞ্জিটা আমার মুখে ছুড়ে মেরে সুমাইয়া চলে গেলো। কনফিউজড হয়ে বসে গেলাম বিছানায়। রুমে ঢুকার আগে ঘড়িতে দেখেছি ১১ টা বাজে।।চোখের পলকে ৪ টা বেজে গেলো কিভাবে। মাথাটা কেমন ঝিম মেরে উঠেছে। ওমনি বিছানায় পড়ে ঘুমিয়ে গেছি।
কিন্তু এরপর থেকেই নেমে এসেছে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় একটি অভিশাপ। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘড়িতে ১১:২৫ বাজে। গতকাল রাতে সুমাইয়া নামের মেয়েটিকে ভোগ করার জন্য ভাড়া করেছিলাম। এলাকায় নামকরা বেশ্যা। তাকে নাকি যতই ভোগ করুক,তৃপ্তিই কমেনা। সবার রিভিউ শুনে আমিও ভাড়া করলাম। বন্ধুর বাসা খালি করে নিয়েও আসলাম। কিন্তু কি ঘটে গেলো। যাইহোক বাসায় যাওয়া যাক।
শোয়া থেকে উঠে বাহিরে চলে আসলাম। বাজারের একটা কোনায় এসে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরাই। তখনি চোখের তলে পড়ে,রাস্তার ওপাশে কাল রাতের ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে। চোখ আমার কপালে উঠার অবস্থা। ছেলেটা আমাকে ফলো করছে নাকি। একেবারে আমার চোখে চোখ রেখে তাকিয়ে আছে। আমি খেয়াল করছি ছেলেটা বিড়বিড় করে কি যেনো বলতেছে। অনেক দূরে তাই শুনতে পাচ্ছিনা । কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটে গেলো ভয়াবহ একটা ঘটনা।
ছেলেটা হুট করেই রাস্তার মাঝে চলে আসে। আমি সিগারেট ফেলে ছেলেটাকে ডাক দিচ্ছি। জোরে জোরে চিল্লাচ্ছি। ছেলেটা রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে হেসে যাচ্ছে। আমি দৌড়ে ওর কাছে যেতে চাইলাম,তখনি একটা ট্রাক এসে ছেলেটাকে উড়িয়ে দিলো। আমার চোখ মুখ যেনো নিমিষে অবশ হয়ে যায়। সিনটা দেখে আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। সেখানেই জ্ঞান হারাই।
সব কিছু ঝাপসা । স্পষ্ট কিছু দেখছিনা। কয়েকজন মানুষ আমার চারপাশে দাড়িয়ে আছে। আমি ধীরে ধীরে উঠে বসি। ভাল ভাবে তাকিয়ে দেখি রাস্তার পাশে বসে আছি আমি। আশেপাশে লোকজন ভিড় করে আছে। একজন বৃদ্ধ লোক এসে আমার পাশে হাটুগেড়ে বসে। আর জিজ্ঞেস করে," তুমি কে বাবা? হটাৎ চিৎকার দিয়ে ঘুরে পড়ে গেলে কেনো? " লোকটির কথা শুনে আমি নিজেকে নিজে চিনতে পারছিনা। একটা বাচ্চা ছেলে এক্সিডেন্ট হয়েছে, ওখানে লোক নেই,অথচ আমার চারপাশে এত ভিড় কেনো। আমি মাথা তুলে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম," একটা বাচ্চা ছেলে যে একটু আগে এক্সিডেন্ট করছে,সে কোথায়? " লোকটি আমার কথা শুনে যেনো খানিকটা অবাক'ই হয়। উনি বললেন," কই,এখানে তো গত ৩ মাস যাবত কোনো এক্সিডেন্ট হয়নি। ৩ মাস আগে একটা হয়েছিলো,তাও একটা কুকুর। তুমি কি ঠিক আছো? তোমার শরীর খারাপ হয়তো। বাসায় যাও তুমি"। লোকটির কথাশুনে আমি আরো বেশি বিষ্টম্ভ হলাম। পকেট হাতিয়ে দেখি মোবাইল ফোন নাই। বুঝেছি তখন আমার হাতে মোবাইল ছিলো। কেও চুরি করে নিয়েছে। আমি উঠে দাঁড়িয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম," আঙ্কেল,কয়টা বাজে এখন? " উনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে উত্তর দিলেন," ১১:২৫ মিনিট"।
মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে আমার। আমি বাসা থেকে বের হয়েছিলাম ১১:২৫ এ। এখনও ১১:২৫ কিভাবে বাজবে। আমি লোকটিকে, ভাল করে দেখে আবার টাইম বলতে বললাম। উনি বললেন,১১:২৫। এদিকে আরেকজন বলল," ঠিকি তো। এখন তো ১১:২৫ বাজে। আমি হতভাগ হয়ে উনাদের ছেড়ে একটু সামনে এলাম। পকেট হাতিয়ে দেখি একটা সিগারেট আছে। ওটা ধরিয়ে আরেকটু সামনে এসে একটা রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম," মামা কয়টা বাজে দেখেন তো?" উনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আমাকে উত্তর দিলেন," ১১:২৫ মিনিট"। আমি এইবার ভয় পেয়ে গেলাম।।
এক দৌড়ে চলে এসেছি নিজের বাড়ির সামনে।।বাসায় ঢুকেই বউকে ডাক দিলাম। বউ রান্নাঘর থেকে ছুটে আসে। পুরো শরীরে ঘাম ওর। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
- তাজকিয়া কয়টা বাজে দেখো।
- কেনো রিয়াজ? কি হয়েছে?
- দেখো তো আগে।
- ১১:২৫।
ধুপ করে বিছানায় পড়ে যাই। তাজকিয়া আমার পাশে এসে বসে। আমার কপালে ছোট ছোট ঘামের ফোটা জমে গেছে।।তাজকিয়া শাড়ির আচল দিয়ে ঘাম মুছে দেয়। প্রায় ২ মিনিট চুপ থেকে আমি আবার তাজকিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম," কয়টা বাজে? " তাজকিয়া ঘড়িতে তাকিয়ে বলল," ১১:২৫ "। লাফিয়ে উঠে আমি বললাম, " মাত্র বললা ১১:২৫। এখনও বলতেছো ১১:২৫। ঘড়ি এদিকে আনো। " তাজকিয়া ভয়ে হাতের ঘড়ি খুলে দিলো। আমি ঘড়ির দিকে এক মনে তাকিয়ে আছি। টিকটিক করে কিছুক্ষণ পর ১১:২৬ বাজে। আমি খুশিতে তাজকিয়াকে জড়িয়ে ধরলাম।।তাজকিয়ার কোনো রিয়েকশন নেই। আমি আবার ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ১১:২৫ বাজে।
জ্ঞান হারাই। আবার চোখ ঝাপসা। চারপাশে বাড়ির লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ঘড়ি ঝাপসা দেখাচ্ছে। স্পষ্ট দেখছিনা। তাজকিয়াকে বললাম ঘড়িতে কয়টা বাজে,তাজকিয়া আবার উত্তর দেয় ১১:২৫।
জেদ করে আমি বসা থেকে উঠে দাড়াই। সবাই ভয়ে সরে যায়। আমি বাসা থেকে বের হয়ে দরজায় দাড়াই। মাথাটা পুরো ঝিম ধরে আছে। কি হচ্ছে আমার সাথে। ঠিক তখনি আমার চোখ উল্টানো আরেকটা ঘটনা ঘটে। আমার বাড়ির ঠিক সামনেই সেই বাচ্চা ছেলেটা দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে। এইবার আমি বুঝে গেছি,এই বাচ্চাটাই মূল নষ্টের গোড়া। দরজা থেকে দৌড়ে বাচ্চাটাকে ধরতে এগিয়ে যাই। বাচ্চাটা আমার দৌড়ে আসা দেখে উল্টো দৌড় দেয়। আমি ওর পিছু নিতে থাকি। দৌড়াতে দৌড়াতে চলে আসি এলাকার পাশের জঙ্গলে। হুট করে দাঁড়িয়ে যাই আমি। নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলাম,বাচ্চাটা তো সাধারণ কোনো বাচ্চা নয়। সে কাল রাত ১ টায় জানালায় কেন ছিলো,আবার নিজেই দেখলাম এক্সিডেন্ট করেছে। এরপর আবার মানুষ বলল কোনো এক্সিডেন্ট হয়নি। আবার যদি এক্সিডেন্ট হয়ে থাকে আমি কার পিছু নিচ্ছি।।সে তাও আমাকে জঙ্গলে নিয়ে এসেছে। আমার সাথে ভাল কিছু হতে যাচ্ছেনা। তখনি আমাকে পিছন থেকে কেও ডাক দেয়। আমি ঘাড় ঘুরিয়ে পিছে তাকিয়ে দেখি কেও নেই। আবার আমাকে পিছন থেকে সেম কন্ঠে কেও ডাক দেয়। আমি পিছু ঘুরে দেখি,সেখানেও কেও নেই। তখনি ডান পাশ থেকে আরেকটা ডাক পড়ে। আমি তাকিয়ে দেখি, দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল গাছটা আমাকে বলতেছে," মৃত্যুর ডাক তোর এতোই পছন্দ? ডাকার সাথে সাথেই তাকাইলি"।
..................
আমার গায়ের কেশ দাঁড়িয়ে গেলো মুহুর্তেই। একটা গাছ আমার সাথে কথা বলছে? অলৌকিক কান্ড। ভয়ে আমি আবার এক দৌড় দিয়েছি। আমি নোটিশ করে যাচ্ছি,আমার চারপাশে থাকা সব কিছুই আমাকে ডাকছে। ওদের কণ্ঠস্বর খুবি ভয়ংকর। ওদের শব্দ শুনেই আমার বুক চিন চিন করে যাচ্ছে। এতোটা ভয়ংকর শব্দ আমি এর আগে কোনো মুভিতেও শুনিনি। দৌড়ার মাঝে হটাৎ একটা পাথরের সাথে হোচট খেয়ে নিছে পড়ে যাই। পাথরটা পিছন থেকে আমাকে ডাক দিয়ে বলতে লাগলো," এদিকে আয় রিয়াজ। তোর মাথা ফাটাই"। ভয়ে আমি আবার উঠে দৌড় দিতে লাগলাম।।আমার চারপাশের সব কিছু জীবিত হয়ে গেছে। পাথর,পাখি,গাছ,পাতা,পিপড়া সব কিছুই আমার সাথে কথা বলে যাচ্ছে। তারা আমাকে ডাকছে। এ যেনো মৃত্যুর ডাক।
দৌড়ে এসে আমি বাসার ভিতর ঢুকে যাই। আমার বউ তাজকিয়া আবার দৌড়ে এসে আমার কাছে দাঁড়ায়। আমি তাজকিয়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলাম। তাজকিয়া আমাকে শান্তনা দিচ্ছে। শান্তনা দিয়ে বলল,
- আপনার কি হয়েছে রিয়াজ। বসুন। আমাকে বলুন।
( তাজকিয়া আমাকে বিছানায় বসায়।আমি হাপাচ্ছি। তাজকিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম)
- কয়টা বাজে?
- ১১:২৫
- এইটাই আমার সমস্যা। আমি বুঝতেছিনা আমার সাথে কি হচ্ছে তাজকিয়া। সেই ঘুম থেকে উঠার সময় দেখেছি ১১:২৫। এরপর থেকে ১১:২৫ দেখেই যাচ্ছি। সবাই ঠিকঠাক আছে,শুধু আমার সাথে এমন হচ্ছে। আমি সব কিছু জীবিত দেখতে পাচ্ছি। আমার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে তাজু। সবাই আমাকে ডাকছে।
তাজকিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল," আপনার কি হয়েছে রিয়াজ?" আমি অবাক হয়ে তাজকিয়ার দিকে তাকাই। ধীর কন্ঠে বললাম," তুমি কিছুই শুনোনি? " তাজকিয়া মাথা নাড়িয়ে বলল কিছুই শুনেনি। আমি আবার বললাম," কয়টা বাজে" তাজকিয়া বলল," ১১:২৫"।
আমি বসা থেকে উঠে দাড়াই। বুঝেছি,আমার সাথে কিছু একটা হচ্ছে। আমি একি সময়ের মাঝে আটকে আছি। সব কিছু জীবন্ত হয়ে গেলো। এই ঘটনার সূত্রপাত কোথা থেকে আমি জানিনা। কিন্তু আমার সাথে কেন হচ্ছে এসব। নিশ্চয়ই রনি জানবে সব কিছু। কাওকে কিছু না বলে আমি আবার বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। তাজকিয়া দরজায় দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকছে। আমি পিছু তাকিয়ে দেখি তাজকিয়া কান্না করছে। আমি চিল্লানি দিয়ে বললাম, কয়টা বাজে? তাজকিয়া বলল," ১১:২৫ "। আমি আর কিছুই না বলে হেটে চলে আসতে লাগলাম। রাস্তার দুই পাশে থাকা গাছগুলো আমাকে ডাকছে। আমি আলাভোলা হয়ে গেছি। কারো কোনো কথায় কান দিচ্ছিনা। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, একটা বিড়াল আমার সামনে সামনে হাটছে আর বলছে," চল,দুজন এক সাথে আত্মহত্যা করি।তোর বেচে থাকার দরকার নেই"। আমি আনমনে হেটে চলে যাচ্ছি। কোনোভাবে হাটতে হাটতে রনিদের বাসার সামনে এলাম।।টিনের ঘর। বাহির থেকে রনিকে ডাক দিতেই রনি দরজা খুলে এসেছে। কোনো কথা না বলেই রনি আমাকে টেনে ঘরের ভিতর নিয়ে যায়। এরপর আমাকে বলল," তোর অনেক বড় বিপদ রিয়াজ"।
আমি চট করে মাথা তুলে রনির দিকে তাকাই। একমাত্র একজনকে পেলাম,যে আমার সমস্যা ধরতে পেরেছে। আমি আত্মহারা হয়ে বললাম,
- আমাকে বাচা রনি। আমি আর নিতে পারছিনা। কি হচ্ছে এসব। আমার অপরাধ কি। আমি কিছুই বুঝতেছিনা।
- তুই কি করেছিস আমি জানিনা। তবে এইটা জানি,সে তোকে নিতে এসেছে। সে তোকে নিয়েই যাবে।
- সে টা কে। কার কথা বলছিস,আর আমাকেই কেন।
- সে কে আমি জানিনা।
- তাহলে জানিস কি। আমাকে খোলসা কর প্লিজ। উদ্ধার কর আমাকে।
- গতকাল রাত ১ টায় হুট করে আমার ঘুম ভাঙ্গে। তুই জানিস গত ৪ বছত যাবত প্যারানরমাল নিয়ে পড়ে আছি আমি। আমার শরীরে এমন একটি শক্তি আছে। যার দ্বারা আমি অশরীরীদের উপস্থিতি টের পাই। রাত ১ টায় ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে আমি উঠে বসি। এই গ্রামে এক ভয়ংকর ও অসীম শক্তির অধীনে থাকা একটি অশরীর প্রবেশ করেছে। আমি মায়াছাল দিয়ে মায়াবী আয়নায় দেখেছি। সেখানে তোকে দেখতে পেয়েছি। বুঝে গেছি অশরীরীটা তোর জন্যেই এসেছে। তার চোখে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে।
- আমি তাকে নিজের চোখে দেখেছি। সে একটা বাচ্চা ছেলে।
- ভুল। কোনো বাচ্চা ছেলে নয়। অশরীরিণী ওটা। একটা মেয়ে।
- মেয়ে? কিন্তু কে সে। আর বাচ্চাটাও বা কে। মেয়েটার সাথে আমার কি শত্রুতা। আমি তো আজ অব্দি কোনো মেয়ের সাথে কিছুই করিনি।
- কাল রাতে তুই কোথায় ছিলি?
- ইয়ে মানে
- তুতলিয়ে লাভ নেই।
- কিন্তু আমি তো ওর সাথে কিছুই করিনি। লাইফের একটা ভুল কাজ হয়তো করতে গেছি। তাও তো করিনি। ওটার সাথে এইটার কি সম্পর্ক।
- আছে রিয়াজ আছে। এরকম আর কোথায় কি করেছিস ভেবে দেখ। এই অশরীরী মেয়েটার সাথে তোর কোনো না কোনো সম্পর্ক নিশ্চয়ই আছে।
- আমি তোরে কেমনে বুঝাইতাম। তাজকিয়ার আগে আমার লাইফে কোনো মেয়েই ছিল না। ৬ বছর রিলেশনের পর তাকেই বিয়ে করলাম। বিয়ে করেছি আজ ১ বছর পার হতে যাচ্ছে। এর মাঝেও কোনো মেয়ের সাথে রিলেশনে যাইনি। তবে কে এই মেয়ে। আমাকে কি একবার দেখাবি? দেখাতে পারবি?
- দাড়া,আমি মায়াবী আয়নাটায় তোকে দেখাচ্ছি মেয়েটাকে। দেখ চিনতে পারস কিনা।
এ বলে রনি ব্যাগ থেকে আয়নাটা বের করে। আয়না নিচে রেখে একটা মোমবাতি আয়নার পাশে রাখে। এরপর কি যেনো বিড়বিড় করতে লাগলো রনি। কিছুক্ষণ পর আমি খেয়াল করতে লাগলাম রনির নাক থেকে রক্ত বের হচ্ছে। আমি অবাক হয়ে যাই। তখনি চোখ যায় আয়নার দিকে। আয়নাতে আমি যে মেয়ের ছবি দেখেছি, ওটা দেখার পর আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি আমি। এই মেয়েটার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।কিন্তু আমি এই মেয়েটাকে জানি। কোথায় যেনো দেখেছিলাম। এরই মাঝে হুট করে রনি শুয়ে পড়ে। আমি লাফিয়ে উঠে রনিকে ডাকতে লাগলাম। এরপর ওর মাথা তুলতেই দেখি, রনির চোখটা কেও খুলে নিয়ে গেছে। আর রনির নাক বেয়ে রক্ত ঝরছে। সবচেয়ে বড় কথা,রনি মারা গেছে।
...............
আমি পুরো স্তব্ধ হয়ে গেলাম। চারপাশে কেমন যেনো ঝাপসা ঝাপসা লাগছে। চোখমুখ লাল হয়ে আছে আমার। ফেসে গেছি আমি ১১ঃ২৫ মিনিটে৷ আমি বের হতে চাই এই অভিশাপ থেকে৷ কিন্তু কিভাবে। কে করবে আমাকে সাহায্য৷ আমার জানামতে আমি কখনো কারো ক্ষতি করিনি। কখনো কারো মনে কষ্ট দেইনি৷ তাহলে কেনো। আর যে মেয়েটাকে মায়াজালে দেখেছি৷ এই মেয়েটার সাথে আমার শুধু ৩ দিনের পরিচয়। তবুও অনেক ভাল ছিলো। তবে এই মেয়েটাকে কেনো দেখলাম আমি৷ আমি ভাবতে পারছিনা। আমার মাথায় কিছু আসছে না। আমি নিতে পারছিনা। পাগল হয়ে যাবো আমি। বের হতে চাই এই ১১ঃ২৫ মিনিট থেকে।
ভাবনার মাঝেই আমার চোখে পড়ে দরজা নিজে নিজে খুলে যায়। দরজার বাহিরেই সেই বাচ্চা ছেলেটাকে আমি দেখতে পাচ্ছি। বাচ্চা ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। খুব অসহায়ের চোখে তাকিয়ে আছে। যেনো তার মনেও আমার মত অনেক কষ্ট। আমি বসা থেকে উঠে ওর দিকে এগিয়ে যাই। বাচ্চা ছেলেটা আমার চোখের দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে। আমি ওর সামনে গিয়ে হাটু গেড়ে বসে যাই। এরপর দুই হাত জোড় করে বিনতি করতে লাগলাম,
- কি করেছি আমি বলো? আমার অপরাধ কি? আমাকে কেনো এতো বড় শাস্তি দিচ্ছো। আমি যদি কখনো কোনো ভুল করে থাকি,তবে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। দয়া করে আমাকে মুক্তি দাও,প্লিজ।
আমার কথা শুনে বাচ্চা ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়েই রইলো। আমি ওর দিকে তাকিয়ে আবার কিছু বলতে যাবো,কিন্তু সে আর সুযোগ দিলোনা আমাকে। বাচ্চা ছেলেটা আমার থেকে চোখ সরিয়ে উল্টো দিকে তাকায়৷ এরপর ঘাড় ফিরিয়ে সে চলে যাচ্ছে। আমি ওর যাওয়া দেখে যাচ্ছি। সে তার ছোট ছোট পা গুলোকে ধীরে ধীরে নাড়িয়ে এগিয়ে যেতো লাগলো। পায়ে স্যান্ডেল নেই। আমি আর কি ভাববো। ভাবার মতো কিছুই পাচ্ছিনা। এই বাচ্চা ছেলেটাই একমাত্র আমার সকল সমস্যার কারণ।আর এই বাচ্চাটাই আমাকে জানাতে পারে কেনো আমার সাথে এমন হচ্ছে। আমি বসা থেকে উঠে ওর পিছু নিতে লাগলাম। আমার কিছু করার নেই। আমার আর কোনো উপায় নেই। আমি নিতে পারছিনা,আটকে থাকতে পারছিনা এই সময়ের বেড়াজালে৷
বাচ্চা ছেলেটাকে খেয়াল করলাম জঙ্গলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমিও পা দিলাম জঙ্গলের সীমানায়। করবো বা কি। আমার পরিস্থিতির চেয়ে মৃত্যুই ভালো। যদি এই বাচ্চার পিছন নিয়ে আমাকে মরতে হয় তবে মরবো। কিন্তু আমাকে এইটা জানতে হবে কেনো আমি এই অভিশাপের শিকার হচ্ছি। কেনো আমার জীবনটা ১১ঃ২৫ এ আটকে গেছে। হয়তো আমাকে বাচতে হবে,নয়তো এই রহস্যের কারণ জানতে হবে।
বাচ্চা ছেলেটা জঙ্গলের আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে হেটে অনেক গভীরে চলে এসেছে। আমি তার পিছু নিতে নিতে নিজেও চলে এসেছি। আচমকা ছেলেটা তার পা চালানো বন্ধ করে দেয়৷ আমিও থমকে দাড়াই। মাথাটা তুলে তাকিয়ে দেখি,ছেলেটার ঠিক সামনে একটা বৃদ্ধ লোক দাঁড়িয়ে আছে৷ বৃদ্ধ লোকটা শুধু বৃদ্ধ লোক নয়। মনে হচ্ছে কোনো পীর৷ উনার সাদা সাদা দাড়িগুলা নাভি অব্দি নেমেছে। গায়ে একটা সাদা পাঞ্জাবি পীড়ন করেছে। পাঞ্জাবি এতোটাই লম্বা যে,উনার পায়ের গোড়ালি দেখা যাচ্ছেনা। বৃদ্ধ লোক দেখতে অনেক সুন্দর, তবে উনার চোখগুলো কেমন একটা লালসা। হাত ও দেখা যাচ্ছেনা,পাঞ্জাবির হাতা এতোই লম্বা যে,হাতের আঙ্গুলও ঢাকা পড়েছে। বাচ্চা ছেলেটা আরেকটু যেয়ে বৃদ্ধ লোকের পাশে দাঁড়ায়। এরপর পিছনঘুরে আমার দিকে আঙুল তুলে। আমি শুধু দেখে যাচ্ছি,কিছু বুঝে উঠতে পারছিনা। তবে এইটা বুঝতেছি,বাচ্চা ছেলেটা আমাকে ইঙ্গিত করে কিছু একটা বলছে। তখনি বৃদ্ধ লোক আমাকে বলল।
- ১১ঃ২৫ এর জার্নি কেমন কাটছে তোর?
( বৃদ্ধ লোকের কথায় অনেক ভয়ানক হুংকার আমি উপলব্ধি করে যাচ্ছি। উনার গলার কন্ঠ অনেক ভয়ানক। মোটা আর যেনো ৪-৫ টা কন্ঠ এক করে উনি আমাকে প্রশ্ন করলো। আমিও জবাব দিলাম)
- কেনো? কি দোষ আমার? ১১ঃ২৫ এ আমাকে ফাসানোর মানে কি? আমি তো কোনো অন্যায় করিনি? কখনো কাওকে কাদাইনি? তাহলে কেনো? আমার পিছু কেনো নিয়েছেন? কি দোষ আমার।
- আজ থেকে 1 বছর আগের কথা। কক্সবাজার হানিমুনে গিয়েছিস। মনে আছে তোর?
- হ্যাঁ, কেনো থাকবেনা। আমার বউকে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওটার সাথে এইটার কি সম্পর্ক?
- কি কি ঘটেছিলো মনে আছে তোর?
- হুম আছে তো।
- বল তো?
( চলুন, রিয়াজের মুখে বলা ঘটনা আমরা স্পষ্ট জেনে নিচ্ছি।কি হয়েছিলো সেদিন,জানতে হলে ফিরে যেতে আমাদের ১ বছর আগে। তাহলে যাওয়া যাক?)
নতুন নতুন বিয়ে করেছে। প্রায় ৬ বছর প্রেমের পর তাজকিয়া নামক মেয়েটিকে ঘরের বউ বানায় রিয়াজ। বিয়ের মাত্র ৪ দিন পরেই রিয়াজ তাজকিয়াকে জানায় তারা কক্সবাজার হানিমুন করবে। তাজকিয়াও বেশ খুশি। এর আগে তাজকিয়া কখনো কক্সবাজার আসেনি। প্রথম বিয়ে,প্রথম হানিমুন,প্রথম সরাসরি সমুদ্র দেখা একটা আলাদা ব্যাপার আছে। কথামতো ওরা চলেও আসে। কক্সবাজার কলাতলী নেমে ওরা সাইমুন হোটেলে রুম বুকিং করে৷ রুমে গিয়েই ক্লান্ত দেহ নিয়ে বিছানায় লেপ্টে পড়ে রিয়াজ। আর তাজকিয়া ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে যায়। এইভাবে ফ্রেশ হয়ে ফ্রী হতে সময় হয়ে যায় সন্ধ্যা। রিয়াজ তাজকিয়াকে বলল,
- সন্ধ্যা তো হয়ে গেছে। চলো আজ শুয়ে যাই। কাল বীচের পাশে গিয়ে ঘুরবো।
- আমার তো ক্ষুদা লেগেছে রিয়াজ।
- ওকে চলো, ২য় তলায় রেস্টুরেন্ট আছে। কিছু খেয়ে আসি। আহহ আমার গ্যাস জমেছে পেটে। বেশি খেতে পারবো না৷
- কমই খেয়ো। চলো।
রিয়াজ আর তাজকিয়া চলে আসে রেস্টুরেন্টে। ঠিক তখনি আচমকা একটা লোক রিয়াজদের টেবিলের পাশে এসে দাঁড়ায়। রিয়াজ লোকটার দিকে তাকিয়ে রইলো। লোকটা বলল,
- ক্যান আই সিট হেয়ার?
রিয়াজ একটু অবাক হয়ে বলল,
- বাট আই ডিড নট নো ইয়ু
- ফ্রেন্ড ক্যান থিঙ্ক
- ওকে শিওর।
লোকটা একটা চেয়ার টেনে রিয়াজের পাশে বসে৷ তাজকিয়া রিয়াজের ডান পাশে,আর লোকটা রিয়াজের বাম পাশে বসে৷ এরপর লোকটা রিয়াজের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল," হাই,আমি জিসান"। রিয়াজও হাত মিলিয়ে বলল" হ্যালো,আমি রিয়াজ"। এরপর লোকটি বলতে লাগলো," ওইজে পিছনের টেবিলে যে লাল শাড়ি পড়া মেয়েটিকে দেখছেন,সে আমার স্ত্রী তাহসিন। আপনাদের দেখে মনে হচ্ছে আপনারাও আমাদের মত ট্যুরে এসেছেন। তাই ভাবলাম পরিচত হওয়া যাক। কক্সবাজার আসলে একা একা ঘুরলে ভালো মজা পাওয়া যায়না। যদি একটা সার্কেল হয়,তবে অনেকটা গুডফিল হয়"। রিয়াজ মানবতার খাতিরে বলল,
- হতে পারে৷ কিন্তু আমার জন্য কক্সবাজার নতুন না। আমার বউ তাজকিয়ার জন্য নতুন। আর আমরা হানিমুনে এসেছি। বিয়ে হয়েছে আজ ৪ দিন।
- হায় হায়, কংগ্রাচুলেশন।
- ইয়াহ, থ্যাংক্স।
এরপর জিসান তার স্ত্রী তাহসিনকে ডাক দেয়। তাহসিনও রিয়াজদের টেবিলে আসে। চারজন মিলেই খাবার অর্ডার করে। খাবার এসেও যায়,আর ওরা খাওয়ার সাথে সাথে আড্ডাও জমাতে থাকে। জিসান ছেলেটা খুব হাসাচ্ছে রিয়াজকে। রিয়াজও একটু পর পর উচ্চস্বরে হেসে উঠে। ফলে রিয়াজের হাসির শব্দে,রেস্টুরেন্টের বাকি লোকরা রিয়াজের দিকে তাকিয়ে থাকে। আড্ডার মাঝে জিসান আবার বলল,
- সো রিয়াজ ব্রো। এখন কি পরিকল্পনা। ঘুমাবে?
- হ্যাঁ, অনেক জার্নি গেলো আজ।
- হা হা হা, তুমি কক্সবাজার এর মজাটা মিস করতে যাচ্ছো তাহলে।
- কিভাবে করলাম?
- ক্লান্ত দেহ নিয়ে, শীতল বাতাসের মাঝে, সমুদ্রের গর্জিত ভাষার শব্দ নিয়ে বালুচরের উপর একটা পার্টি হয়ে গেলে কেমন হয়?
- হা হা হা,পার্টির মোড না থাকলেও তোমার শব্দচয়ন শুনে আমার সত্যিই পার্টিতে জয়েন করতে মন চাচ্ছে।
- হাহাহা, তাহলে শুরু করা যাক।
- কিন্তু কিভাবে কি।
- কান এদিকে আনো। চুপিচুপি বলি।
- হা বলো।
- আমি ৪ টা বোতল এনেছি। ৪ জন মিলে সমুদ্রের পাড়ে বসে খেয়ে মাতাল হয়ে ইচ্ছামত উপভোগ করবো রাতের সমুদ্র। কি বলো।
- এইটা আমার জন্য নতুন কিছু না। কিন্তু আমার তাজকিয়া আগে কখনো খায়নি। ওরে সামলাতে পারবো নি।
- হাহাহা, এইটাই তো হানিমুন। সামলা সামলি
-হাহাহা। ওকে ডান। তাইলে আমরা যেয়ে রেডি হয়ে আসি।
- হুম এখন ৮ টা বাজে। ১০ টায় আসো। ১২ টা অব্দি আড্ডা হবে।
- ডান।
রিয়াজ আর তাজকিয়া উঠে যায়। এরপর রুমের দিকে চলে আসে৷ তাজকিয়া দরজা লক করতেই রিয়াজ বলল,
- এদিকে আসো।
- কেনো। চলো ড্রেস চেঞ্জ করি।
- এখনো ২ঘন্টা আছে।
- বুঝেছি। দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় চেপেছে। এখন কিচ্ছু হবেনা। রাতে মাতাল হয়ে যা হবার হবে।
- না না না, আমার এখন মোড হচ্ছে। এদিকে আসো।
- হুরর না।
এ বলে তাজকিয়া আয়নার সামনে দাঁড়ায়। রিয়াজ বিছানায় বসে আছে। তাজকিয়া বলল, " কোন ড্রেস পড়লে ভাল লাগবে আমাকে? "। রিয়াজ বিছানা থেকে উঠে তাজকিয়াকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। এরপর কানে ফিসফিস করে বলল," তোমাকে যেটায় হট লাগে, সেটাতেই তোমার সৌন্দর্য ফুটে উঠে"। এ বলেই রিয়াজ তাজকিয়ার ঘাড়ে কিস করতে লাগলো। তাজকিয়ারও মোড চলে আসে। রিয়াজ তাজকিয়াকে কোলে তুলে নেয়। এরপর বিছানায় এনে ধপাস করে ফেলে। তাজকিয়ার চোখ বন্ধ। শাড়িটা সরে গিয়ে নাভি দেখা যাচ্ছিলো। রিয়াজ নাভির দিকে এগিয়ে আসতে থাকে.....
......................
তাজকিয়া চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে। ঠিক তখনি, " ঠকঠকঠক"। অর্থাৎ দরজায় কারো উপস্তিতির ইঙ্গিত। রিয়াজ উঠে দাড়ায়। তাজকিয়াও উঠে দাড়িয়ে যায়। এরপর রিয়াজ দরজার কাছে গিয়ে দরজা খুলে দেখে জিসান দাঁড়িয়ে আছে৷ রিয়াজ বলল,
- কি ব্যাপার। রেডি হয়ে গেছো নাকি তোমরা।
- হুম। তাড়াতাড়ি যেতে চাচ্ছি। বেশি শীত পড়ছে এখন। ভাবছি রাত গভীর হলে পরে আবার যদি না অসুস্থ হয়ে যাই। তাহলে তো আবার আগামীকালের ঘুরাঘুরি গোল্লায় যাবে হাহাহাহা।
- হাহাহাহাহা। তুমি বেশিই মজার মানুষ। হাসতেই বাধ্য। ঠিক আছে,তোমরা নিছে অপেক্ষা করো। আমরা রেডি হয়ে আসছি৷
জিসান নিছের দিকে চলে যায় তাহসিনকে নিয়ে। রিয়াজ এসে তাজকিয়াকে তাড়াতাড়ি রেডি হতে বলে। ওরা একি রকম জামা পড়ে নেয়। রিয়াজ কালো একটা শার্ট,কালো প্যান্ট পড়ে নেয়৷ আর তাজকিয়াও কালো একটা গেঞ্জি এবং কালো একটা জিমসের প্যান্ট পড়ে নেয়। এরপর দুজনেই এক সাথে বের হয় পার্টির উদ্দেশ্যে।
শীতল বাতাস, কনকনে শীত৷ বীচের পাশে সবসময় লেগে থাকা সমুদ্রের গর্জন, এরই মাঝে বালির উপর একটা ছোট নৌকায় অবস্থান করছে রিয়াজ,তাজকিয়া,তাহসিন এবং জিসান। জিসান ব্যাগ থেকে ৪ টা বোতলই বের করে৷ এরপর একটি গ্লাসে কিছু মদ ঢেলে নেয়। সবার আগে সে রিয়াজকে দেয়। রিয়াজ নাক বন্ধ করে গিলে ফেলে সবটুকু। এরপর জিসান নিজে খায় আর তারপর তাজকিয়া এবং তাহসিন। বোতল একটা শেষ হবার পর ওরা গানের আড্ডা শুরু করে। জিসান একটি গান ধরে, তার গলার সুর মিলিয়ে বাকি ৩ জনও গানে তাল মিলায়। আড্ডার মাঝে জিসান আরেকটা বোতল খুলে নেয়। এইভাবে গান আর মদ মিলিয়ে বোতল ৩ টা শেষ হয়ে যায়। আরেকটা অবশিষ্ট আছে। কিন্তু খাওয়ার মত অবস্থা রইলোনা ওদের। রিয়াজ মাতাল হয়ে বলতে লাগলো,
- ওয়াও জিসান। খুব ভালো একটা ফীল পাচ্ছি। অসাম।
- হাহাহা, চলো এই অনন্দে একটা ডান্স হয়ে যাক।
- না না না, আমি নাচতে পারবো না। লোড হয়ে গেছি।
জিসান হাসতে হাসতে তাহসিনকে টানতে থাকে। তাহসিনও আসছে না,বেশিই মাতাল হয়ে গেছে। এরপর জিসান তাজকিয়াকে জোর করে টেনে তুলে। রিয়াজ আর তাহসিন হাত তালি দিতে লাগলো। নাচার জন্য উৎস দিতে থাকে। জিসান মোবাইলে একটা রোমান্টিক গান চালিয়ে তাজকিয়াকে নিয়ে নাচতে শুরু করে৷ তাজকিয়াও মাতাল হয়ে নেচে যাচ্ছে। হেলেদুলে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সামলে নিচ্ছে জিসান। অনেক্ষন নাচানাচির পর রিয়াজ হটাৎ বমি করে দেয়। তাজকিয়া নাচ বন্ধ করে হেলেদুলে রিয়াজের কাছে চলে আসে। বেশি খেয়ে ফেলেছে,রিয়াজ এখন আউট অফ কন্ট্রোলে চলে যায়। জিসান বলল," ওকে,রিয়াজ অসুস্থ হয়ে গেছে। আজকের জন্য বাদ। কাল আবার ঘুরতে হবে। চলো যাই"।
আড্ডা অফ করে মাতাল হয়ে হেলেদুলে ৪ জনই হোটেলে চলে আসে। জিসান আর তাহসিন তাদের রুমে যায়,রিয়াজ এবং তাজকিয়া তাদের রুমে চলে আসে। রিয়াজ রুমে এসেই হুট করে বিছানায় পড়ে যায়। তাজকিয়াও মাতাল অবস্থায় রিয়াজের পাশে ধপাস করে পড়ে৷ তলিয়ে যায় ঘুমের ভিতর।
সকালবেলা তাহসিন এর ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙ্গে রিয়াজ এবং তাজকিয়ার। তাজকিয়ার গেঞ্জি বুকের উপর উঠে গেছে। ব্রা'টা দেখা যাচ্ছিলো। রিয়াজ লাফিয়ে উঠে। তাজকিয়াও উঠে গেঞ্জি টেনে নামিয়ে নেয়। তাহসিন বলল," আর কতক্ষণ ঘুমাবেন আপনারা। সকাল ১১ টা বেজে গেছে। চলুন ঘুরতে যাই ইনানী"। রিয়াজ চোখ কচলাতে কচলাতে বলল," জিসান কই"। তাহসিন বলল " সেও ঘুম। আমি তোমাদের ডাকতে এসেছি। এখন তাকে ডাকবো"। রিয়াজ হ্যাঁ সম্মতি দেয়। তাহসিন চলে যায়,রিয়াজ আর তাজকিয়াও উঠে পড়ে৷ তাজকিয়া ওয়াশরুমে ঢুকতে যাবে,তখনি রিয়াজও ঢুকে যায়। তাজকিয়া বলল,
- একি! বের হও। গোসল করবো।
- তো কি হয়েছে। আমি সাবান দিয়ে তোমাকে মেজে দিবো।
- মাইর খাবা কিন্তু।
- ওকে,কে কাকে মারে দেখা যাক।
বলেই রিয়াজ তাজকিয়ার সাথে দুষ্টুমি শুরু করে দেয়। এখন আবার বইলেন না কেমন দুষ্টুমি করতেছে। আমি জানি,আপনি আমার থেকেও পাকনা।
সেদিন তারা ৪ জনই ঘুরতে বের হয়ে যায়। রিয়াজ পড়েছে একটা টু-কোয়াটার প্যান্ট এবং লাল গেঞ্জি। আর তাজকিয়া পড়ে লাল একটু গেঞ্জি এবং সেম টূ-কোয়াটার প্যান্ট। জিসান একটা শার্ট ও জিমস,তাহসিন শাড়ি পড়ে। সারাদিন অনেক মজা করে। এরপর সন্ধায় ফিরে আসে হোটেলে। আজ রাত আর বেশি আড্ডা দেয়নি। টায়ার্ড ছিলো। তাই তারা এসে খেয়েই ঘুমিয়ে যায়। পরেরদিন সকালেও তারা পাটোয়ার ট্যাগ নামক একটি স্পটে ঘুরতে যায়। সন্ধ্যা হোটেলে এসে আগেরদিনের মতোই ঘুমিয়ে পড়ে৷
সকালে ঘুমের মাঝে ফোন বেজে উঠে রিয়াজের। রিয়াজ লাফিয়ে উঠে ফোন রিসিভ করে। বাসা থেকে কল এসেছে। রিয়াজের বাবা একটু অসুস্থ। রিয়াজ তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ায়। এরপর তাজকিয়াকেও ডাকতে শুরু করে। দুজনেই একটু বিব্রত হয়। তাজকিয়াও তার শশুরকে অনেক ভালোবাসে। নিজের আপন বাবার মতোই সম্মান করে। উনার অসুস্থতার কথা শুনে হুড়হুড় করে কেদে দেয়। কি আর করার। ওরা কিছু না ভেবে চলে যায় ব্যাগ নিয়ে বাস কাউন্টারে৷ টিকিট কেটে দুজনেই বাসে উঠে। তাজকিয়া রিয়াজের কাধে মাথা নিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখে। রিয়াজ বলল,
- শিট, জিসানের নাম্বারটাও নেওয়া হলো না। আসার সময় অন্তত তাকে বলে আসা উচিৎ ছিলো।
- হুম। ওদের জন্যেই আমাদের কক্সবাজারটা সুন্দর কেটেছিলো। এখন কি ভাববে আমাদের।
- কি করার। পৃথিবীটাই এমন। জীবনে হাজার মানুষ আসবে,আর হাজার মানুষ চলে যাবে। কিন্তু পরিস্থিতির সাথে আমাদের মানিয়ে নিতে হয়৷
এ ছিলো কক্সবাজার হানিমুনের ঘটনা। যেটা রিয়াজ জানে। চলুন, আবার ব্যাক করা যাক। রিয়াজের অজান্তে কি হয়েছিলো তা শুনা যাক৷
............
যেদিন রিয়াজ আর তাজকিয়া কক্সবাজার আসে। ঠিক সেদিনই জিসান এবং তাহসিন আসে। রিয়াজরা যে বাসে উঠেছিলো,তার ঠিক পিছনেই ছিলো জিসানদের সিট। রিয়াজ জানালার কাছে বসে। তাজকিয়া বসে মাঝে। তাজকিয়ার গায়ে ছিলো একটা শর্ট গেঞ্জি। যেটা পড়লে নাভি আর পেট স্পষ্ট দেখা যায়। জিসান পিছনের সিট থেকে তাজকিয়ার কোমর দেখে যাচ্ছিলো। সাদা চামড়ার নরম কোমর দেখে জিসান কিছুটা দুর্বল হয়ে গেলো। বাস যখন চিটাগং পার হয়,তখন ভোর ৩ টা বাজে৷ সবাই ঘুম। জিসান অনেকবার চেষ্টা করেছে তাজকিয়ার কোমরে হাত দেবার। কিন্তু সাহস করতে পারেনি। তবে বলা যেতে পারে,পুরো জার্নিতেই জিসান তাজকিয়ার কোমর দেখে আসছে।
বাস থেকে নেমে রিয়াজ যখন হোটেলের রুম বুকিং করতে যায়। ঠিক তখনি তাদের পিছনে ছিলো জিসান এবং তাসহিন।জিসান তখন আবার চোখ দেয় কোমরে৷ কিন্তু এইবার শুধু কোমরেই সীমাবদ্ধ ছিলোনা। তাজকিয়ার পিছনের দিকে চোখ যায়৷ টাইট প্যান্ট পড়েছে তাজকিয়া। যার কারণে জিসান চোখের ইশারাতেই মেপে যাচ্ছে সব। রিয়াজ যে রুম বুকিং করেছে। জিসানেরও উদ্দেশ্য রুম পাশেরটা বুকিং করবে। রিয়াজ রুম বুকিং করে চলে যায়,এরপর জিসানও ঠিক তাদের পাশের রুম বুকিং করে। রুমে এসে জিসান জানালায় যায়। ওদের ব্যালকনি থেকে রিয়াজদের ব্যালকনি মাত্র ৫ হাত দূরে। জিসান এক মনে ব্যাককনির দিকে তাকিয়ে আছে। তাহসিন ওয়াশরুমে গোসল করতেছে। এদিকে তাজকিয়া গোসল শেষে ব্যালকনিতে জামা এবং চুল শুকাতে আসে৷ গায়ে ছিলো শুধু একটা চাদর। জিসান যেনো হিংস্র জানোয়ারের মত চোখ দিয়েই খেয়ে ফেলতেছিলো তাজকিয়াকে। এরপর পরিচিত হবার ব্যাপারটা সম্পূর্ণ জিসানের পরিকল্পিত। মদ খাওয়ার সময় সবাইকে মদ্যপান করালেও,জিসান সেদিন মদ্যপান করেনি। সে গ্লাস মুখে নিতো,কিন্তু না খেয়ে মিছেমিছি বোতল উপরে তুলে সেম গ্লাসটা আরেকজনকে পাস করতো। সবাইকে মাতাল বানিয়ে জিসান তাজকিয়াকে টাচ করার সুযোগ নিয়ে নেয়৷ রিয়াজ মাতাল ছিলো,মাতাল ছিলো তাহসিন। ওরা কিছুই দেখতে পায়নি। তাজকিয়াও মাতাল, সে হেলেদুলে শুধু মাতলামি করে যাচ্ছে। জিসান নাচার মাঝে তাজকিয়ার কোমর,পিঠ স্পর্শ করে যাচ্ছিলো। বুক স্পর্শ করবে,তখনি রিয়াজ বমি করে দেয়। আর স্পর্শ করা হয়নি জিসানের। এরপরে জিসান আবার ট্রাই করে রুমে। যখন মাতাল হয়ে রিয়াজ এবং তাজকিয়া রুমে এসে শুয়ে যায়। দরজা লক করতে ভুলে যায় ওরা। জিসান রুমে ঢুকে দরজা অফ করে দিয়েছিলো। এরপর দেখে তাজকিয়া এবং রিয়াজ মাতাল হয়ে শুয়ে আছে। জিসান এই সুযোগে টেবিলের কাছে আসে। মোবাইলে ক্যামেরা অন করে সে ভিডিও রেকর্ড চালু করে। কারণ এই ভিডিও দেখিয়ে সে তাজকিয়াকে যেমন ইচ্ছে নাচাবে। জিসান নিজের প্যান্টের চেইনটা খোলে। এরপর তাজকিয়ার কাছে এসে দাঁড়ায়। তাজকিয়ার হুশ নেই। জিসান আস্তে করে আগে তাজকিয়ার গেঞ্জিটা গলা অব্দি তুলে ফেলে৷ এরপর ব্রায়ে হাত দেওয়ার আগেই তাজকিয়া একটু নড়ে উঠে। জিসান ভয় পেয়ে যায়,আর এক দৌড়ে ফোনটা হাতে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। সেদিন জিসানের অনেক রাগ।সে যৌনসঙ্গমের ভিডিও বানাতে পারেনি। এর পরেরদিন ঘুরাঘুরি করার সময়েও বিভিন্ন কলাকৌশলে তাজকিয়ার দেহে হাত দেয় জিসান। লোভ বেড়ে যায় তাজকিয়ার প্রতি। কিন্তু এর মাঝেই হুট করে কক্সবাজার ত্যাগ করে রিয়াজ আর তাজকিয়া। যেটায় জিসান প্রায় সাইকো হয়ে গেছিলো।
এ ছিলো রিয়াজের অজান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনা। তাহলে প্রশ্ন, এই বাচ্চা ছেলেটা কে। আর কে এই বৃদ্ধ লোক এবং অশরীরী মেয়ে।আর রহস্য কিসের এই ১১ঃ২৫ মিনিটের। চলুন পরের ঘটনা শুনে যাই।
সেদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে তাহসিন রিয়াজদের রুমে যায়। গিয়ে দেখে রুম খালি। তাহসিন কিছু বুঝতে না পেরে জিসানের কাছে যায়। জিসান এখনো ঘুম। তাহসিন জিসানকে কিছুক্ষণ ডাকতে থাকে৷ জিসান ঘুম চোখে উঠে বলল," কি হয়েছে,সকাল সকাল এইভাবে ডাকছো কেন"। তাহসিন বলল," রিয়াজ ভাইয়া আর তাজকিয়া আপু মনে হয় চলে গেছে। ওদের তো রুম খালি"। কথাটা শুনতেই জিসান লাফ মেরে উঠে। এরপর দৌড়ে রিয়াজদের রুমে চলে যায়। নিজের চোখে দেখলো রুম খালি। তাহসিন খেয়াল করে,জিসানের চোখ লাল হয়ে গেছে রাগে। তাহসিন এখনো বুঝেনি,জিসান কেনো এমন করতেছে। জিসান সেদিন থেকেই একটা সাইকো সাইকো ভাব নিতে থাকে। সব সময় রাগ দেখায়। খেতে বললেও রাগ দেখাবে,আর খেতে না দিলেও রাগ দেখায়৷ ভালো কথা বললেও রাগ,আবার খারাপ কথা বললেও রাগ দেখাবে। তাহসিন বিষয়টা নোটিশ করার পর অনেকটাই হয়রানি হয়৷ তাহসিন বুঝে উঠতে পারছিলোনা সে কি করবে। জিসান এখন আর আগের মতো স্বাভাবিক নেই। কিন্তু এইভাবেও বেশিদিন যায়নি৷ একদিন ঘটে যায়,অনেক ভয়ানক একটি ঘটনা।
গ্রামের বাড়িতে ওরা।তাহসিনের বাবা ওদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সাথে আসে তাহসিনের ছোট ভাই আবির। এসে মেয়ের মুখটা দেখে তাহসিনের বাবা কিছুটা বুঝতে পারে। জিসান বাহিরে গেছে। ঘরে তাহসিনকে একা পেয়ে ওর বাবা জিজ্ঞেস করতে লাগলো,
- কি হয়েছে মা? আমি আসার পর থেকেই তোকে কেমন যেনো দেখে যাচ্ছি। তোর মাঝে আগের খুশি আর হাসি নেই। কি হয়েছে?
- বাবা, আমি ভালো নেই। জিসানের মাঝে কেমন যেনো পরিবর্তন এসে গেছে। সে ইদানীং সাইকোদের মত আচরণ করে। আমাকে শুধু শুধু মারধর করে৷ আমি কিছুই বলতে পারিনা ওর সাথে। তোমরা বেড়াতে এসেছো,এইটা জানলেও হয়তো আমাকে মারধর করবে। আমি কি করবো বাবা বুঝিতেছিনা।
তাহসিনের কথা শুনে ওর বাবাও একটু চিন্তিত হয়ে গেলো। তখনি তাহসিনের ছোট ভাই বলল,
- আপু। এখন ডিজিটাল যুগ। আমার জানামতে দুলাভাইয়ের ফোন চেক করলে সব জানতে পারবি৷ কারণ আজকাল কেও মনের কথা কাওকে না বললেও,তার ফোন দ্বারা বুঝা যায় সে কি চায় বা করতে যাচ্ছে।
- তোর এতো কম বয়স৷ তুই এসব জানলি কিভাবে।
- রিয়াজ রাজ অফিসিয়াল পেজে একটা লেখা পড়েছিলাম। সেখানে লেখা ছিলো,এখনকার যুগটা খুবি খারাপ। কারো মনের অবস্থা বুঝতে হলে সর্বপ্রথম তার ফোন চেক করা উচিৎ। কারণ মানুষরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে ফেসবুকে বা টিকটকে। সে যে মনমানসিকতায় থাকে,সে টপিকেই লিখতে বা অভিনয় করতে ভালোবাসে। দুলাভাইয়ের একাউন্ট চেক করলে বুঝা যেতে পারে উনি কি নিয়ে আপসেট।
- ঠিক আছে। আমি দেখছি।
বাবা,ভাই,বোনের আলাপের মাঝেই জিসান বাসায় আসে। সবার চোখ হুট করে দরজায় যায়। জিসান তাহসিনের বাবা এবং ভাইকে দেখে চেহারা কেমন যেনো কালো করে ফেলেছে। ভয় পেয়ে যায় তাহসিন। জিসান রাগে গজগজ করে রুমে চলে যায়। কোনো কথা না বলে একটা লুঙ্গি নিয়ে পুকুর ঘাটে চলে যায় গোসল করতে। তখনি আবির বলল," আপু,এইটাই সুযোগ "। তাহসিন দৌড়ে যায় জিসানের রুমে। আবির এবং তাহসিনের বাবাও যায় দেখতে।টেবিল থেকে জিসানের ফোন নেয় তাহসিন। তাহসিন লকটা খুলতেই দেখে,একটা ভিডিও আগে থেকে প্লে করা। লক খোলা মাত্রই অটো আবার প্লে হয়ে গেলো। উপরে ডিটেইলস আছে। ভিডিওটা সকাল থেকে ২৭৩১ বার দেখা হয়েছে। তারমানে জিসান সকাল থেকে বাহিরে বসে এই ভিডিওটাই দেখে সময় কাটিয়েছে। মনোযোগ দিয়ে তাহসিন, আবির আর ওদের বাবা ভিডিও দেখতেছে। সেখানে সেদিন রাতের ঘটনা শো হয়। জিসান চেইন খোলে,তাজকিয়ার কাছে যায়,গেঞ্জি তোলে,এরপরই ব্রায়ে হাত দেওয়ার আগে দৌড় দেয়। তখনি রুমে ঢুকে যায় জিসান।
তাহসিন ভয়ে ফোনটা হাত থেকে ফেলে দেয়। জিসান নিছে তাকিয়ে দেখে,ওর ভিডিওটা চলতেছে। জিসান গোসল না করেই চলে আসে সাবান নিতে। কিন্তু এসে দেখে এমন সিন। আবিরও ভয়ে থরথর করে কাপছে। তাহসিন গলা বড় করে বলল,
- তুমি কেমন মানুষ জিসান ছিহ।তারমানে এই কারণে তুমি এতো আপসেট। আরেকজনের বউয়ের উপর এতো ইন্টারেস্ট তোমার? আমি কোনদিক দিয়ে তোমার অভাব পূরণ করিনি? কেনো করতেছো এমন।
তাহসিন শুধু কান্না করছে আর কথাগুলো বলতেছে। এখনো বলতেছে, কিন্তু কথা শেষ না হতেই জিসান দেওয়ালে থাকা দেওয়াল ঘড়িটা নিয়ে, তাহসিনের মুখে ঠাসস করে মেরে দেয়। ঘড়ির কাচ তাহসিনের গালে ঢুকে যায়। আবির জিসানকে ধাক্কা দিতে আসলে,জিসান আবিরকে ধরে উপরে তুলে ফেলে। এরপর একটা আছাড় মারে জোরে। আবিরের মাথা ফেটে রক্ত বের হতে লাগলো। তাহসিনের বাবা রাগে চিৎকার দিতে যাবে,তখনি জিসান তাহসিনের বাবার বুকে সজোরে লাথি মারে। বুকে আঘাত খেয়ে সেখানেই মারা যান তিনি। তাহসিনের হুশ আছে, কিন্তু পুরো শরীর অবশ। সে নড়াচড়া করতে পারছেনা। জিসান ঘড়িটা তাহসিনের মুখের উপর ছুড়ে মেরে ঘরের বাহিরে চলে যায়। এরপর একটা পলিথিনে আগুন লাগিয়ে সেটা ঘরের ভিতর ছুড়ে মারে।হুট করে ধাউধাউ করে আগুন লেগে যায় ঘরে। জিসান পাগল হয়ে গেছে। আজ সে পুরোপুরি পাগল হয়ে গেলো। হাসতে হাসতে রাস্তার দিকে দৌড় দেয়। এদিকে ধাউ ধাউ করে জ্বলছে ঘর। ভিতরে তাহসিন সহ সবার দেহ জ্বলছে। তাহসিনের এখনো জ্ঞান আছে। কিন্তু নড়াচড়া করার শক্তি নেই। চোখের সামনে নিছে ঘড়িটা পড়ে আছে। সেখানে সময় ১১ঃ২৫ মিনিট। কিন্তু ১১ঃ২৫ মিনিটেই দাঁড়িয়ে আছে। আঘাত করায় ঘড়ির ব্যাটারি খুলে যায়। তাই ঘড়ি আর চলছে না।ঘড়ির দিকে তাকানো অবস্থাতেই তাহসিনের দেহ পুড়ে যায়। শেষ হয়ে যায় সবাই।
সব ঘটনা বৃদ্ধার মুখে শুনে রিয়াজের চোখে পানি চলে আসে। রিয়াজ হাটু ফেলে দিয়ে বসে যায়। আর কান্না করে বলতে লাগলো," এ আমি কি করেছি৷ তাজকিয়াকে যদি ভালো জামা পড়িয়ে রাখতাম। আজ এতো বড় স্টোরি হতোনা"। তখনি মেয়েলি কন্ঠের তাহসিনের আত্মা রিয়াজের সামনে এসে বলতে শুরু করে," এইটাই তো দোষ। বউকে হটনেস অবস্থায় দেখতে চাইলে নিজের রুমে দেখতি। বাহিরে কেন দেখাস৷ তোদের মত জানোয়ারে জন্য হাজার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। বউকে চান্স দেস তোরা,বউয়ের ব্যাক সাইড আর বুক ফুলিয়ে রাস্তায় বের করে হাজার ছেলেকে বিগড়ে দেস। ধর্ষণ হবার আরেকটা কারণ তোদের মত নরপশুরা। নারী, সে'তো পর্দার আড়ালে থাকার জিনিস। তোদের মত স্বামীর কারণেই ওরা এসব দেখাতে সাহস পায়। তোর বেচে থাকার অধিকার নেই" বলেই রিয়াজের গলায় তাহসিন নখ ঢুকিয়ে দেয়।
রিয়াজের চোখ বড় হয়ে যায়।
গলা দিয়ে চিৎচিৎ করে রক্ত বের হতে থাকে।
গলাকাটা মুরগির মতো সেখানেই ধড়পড় করতে থাকে রিয়াজ৷ কিছুক্ষণ পর অনেকদূর কোনো এক মসজিদে আজান দেয়। মৃত্যুর আগে রিয়াজ আজানের শব্দ শুনে বুঝে গেছে। ১১ঃ২৫ মিনিটের রহস্য শেষ। এখন দুপুর ০১ঃ০০ টা বাজে। এই ১১ঃ২৫ মিনিট কোনো সময় ছিলো না। এইটা ছিলো রিয়াজের জন্য একটি মৃত্যুর ডাক।
[ বউ, বোন,স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা। ঘরে হোক সে যেমন তেমন। বাহিরে তাকে পুরোপুরি ঢেকে রাখার দায়িত্ব নিন৷ আপনার জন্যেও যাতে মৃত্যু না হয়,তাহসিনের মত অন্য মেয়েদের৷ কক্সবাজার আজকাল এমন অনেক দেখা যায়। আর ঢাকা শহরের কথা না'ই বলি। তবুও হয়তো কেও বলবে," my life, my rules ]
*************** সমাপ্ত****************

0 Comments