মুখোশের আড়ালে
HOROR STORY🍒
18+warnings
- ভাবিকে ৫০০ টাকা দিলেই হয়ে যাবে?
- হ্যাঁ 'রে হ্যাঁ। ভাবির স্বামী বিদেশে থাকে। নিজের যৌবনটা আর কতদিন এইভাবে ফেলে রাখবে। তাই ৫০০ টাকার বিনিময়ে এক রাত সাথে থাকে।
- কিন্তু এইটা তো বাজে কাজ।
- তুই কি পাগল? আজকাল এসব কেও খোজে নাকি।
- উনার টাকার অভাব নেই।তবুও ৫০০ কেনো নেয়?
- হ,সেটা ভাবি আমাকে বলেছে? আচ্ছা আমাকে আগে এইটা বল,তোর পকেটে কি ৫০০ টাকা আদৌও আছে?
- না মানে ইয়ে...
- হয়েছে বুঝেছি। আপনে যেতে পারেন। আমি আজ একাই যাবো।
- আচ্ছা শুন বন্ধু,রেগে যাচ্ছিস কেন।তুই আজ আমার টাকা'টা চালিয়ে দে৷ আমি তোকে দিয়ে দিবো প্রমিজ।
- কখন দিবি?
- কালকেই দিবো,শিওর।
- তাহলে তুই কালকেই করিস।এখন বিদায় হ তো?
এ বলে উল্টো হাটা ধরলো কালাম। মেহেদীকে সাথে নিয়ে যেতো,কিন্তু মেহেদীর গরীবতা তার অস্থাকে শায়েস্তা করতে বাধ্যস্থ হয়েছে। এই গ্রামে সবার চোখের নজরে সবসময় ভেসে বেড়ায় নামকরা ভাবি। যার চাচি,সেও বলে ভাবি।যার আন্টি,তারও ভাবি৷ এই বিখ্যাত ভাবির স্বামী বিয়ের ২ মাসের মাথায় বিদেশে চলে যান। প্রতি মাসে আয়ের টাকা পাঠায়,আর এলাকার বিখ্যাত ভাবি সেই টাকা দিয়ে বাড়িগাড়ি গড়ে তোলেন। কিন্তু বাড়ি-গাড়ি দিয়েই কি সব সুখ পাওয়া যায়? ওটাও তো লাগে৷ আর যেটা লাগে,সেটা ভাবি ৫০০ টাকার বিনিময়ে করে থাকেন। এই ৫০০ টাকা গুলোও ভাবি জমাতে থাকে। মাসে প্রায় কয়েক লাখের বেশি কামাই করে নেয়। আর সাথে উনার যৌবন জ্বালাও মিঠে যায়। চলুন ঘটনায় চলে যাই।
ভাবির নাম জান্নাত। এতো সুন্দর একটা নামের সাথে ভাবির দেহখানাও কম যায় না। তবে ভাবি সেটাকে অবৈধ ভাবে চালাচ্ছে। যদিও কি'বা করার। ভাবির তো আর একা রাতে ঘুম আসেনা। সাথে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটা সঙ্গি দরকার পড়েই।যদিও সঙ্গিনী ঘুম পাড়াতে আসেনা,ঘুম উড়াতে আসে।
কালাম আনমনে চলে আসে ভাবির দরজার সামনে। আনমনে আসার কারণ হচ্ছে,সারারাত কি হবে তা যেনো কালাম আগেই চিন্তা করে নিলো। পলিসি ফলো করে অনেক সে। কালাম ভাবির দরজার সামনে এসে ভাবির নাম্বারে কল দেয়৷ এরপরের সিনটা আপনাদের কল্পনা করতে হবে। বিভিন্ন মুভিতে যা দেখেন আরকি,শাড়ি পড়া মেয়েটা দরজা খোলে। সামনে থাকা ছেলেটার মুখে এক অদ্ভুত বাতাস বইতে থাকে৷ ছেলেটার মুখে মুচকি হাসি থাকে। মেয়েটার নাভির দিকে চোখ একেবারে লাগিয়ে দেয় ছেলেটি।মেয়েটির মুখেও মুচকি হাসি। চারপাশে স্লো-মোশন হয়ে যায়।এ যেনো যুদ্ধ ঘোষণার একটি ইঙ্গিত।
দেখলেন তো? কল্পনা হয়েই গেছে। আপনারাও এসবের কল্পনা এতো দ্রুত করতে পারেন,আমার জানা ছিলো না।জানা থাকলেও আমি জানিনা।
কালাম এক পা,দুই পা,তিন পা করে এগিয়ে আসে জাতির ভাবি জান্নাতের কাছে। জান্নাত কালামকে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা অফ করে দেয়।এরপর কালাম জান্নাতকে কোলে তুলে চোখের দিকে তাকায়৷ আর হেটে হেটে চলতে থাকে যুদ্ধের ময়দানে,আই মিন ওইজে,যা ভাবছেন সেটাই।
বিছানার উপর কালাম ভাবিকে যেনো ছিটকে ফেলে দেয়। বিছানায় স্প্রিং করে ভাবির শরীরের চামড়া যেনো হেলেদুলে যাচ্ছে৷ এতো নরম চামড়া আজ কামড়ে খাবে নাকি চুষে,তা ভেবে বেহুদা হচ্ছে কালাম। এরপর কালাম থ্রি, টু,ওয়ান বলেই ভাবির উপর ঝাপিয়ে পড়লো।
( মেয়েলি কন্ঠে)
ব্রেকিং নিউজ - গতকাল রাতে গোয়ালিয়া গ্রামের মোঃ কালাম হোসেন উরফে আবুল সাহেবের ছেলে এবং প্রবাসী মোঃ আজিজুল সাহেবের স্ত্রী জান্নাত বেগমের লাশ পাওয়া যায় কালো নদীর কিনারায়। রিপোর্ট অনুযায়ী লাশের গায়ে কোনোরকম কাটাছেঁড়া বা আঘাতের চিহ্ন নেই। কোনো বিষাক্ত মেডিসিন দিয়েও তাদের খুন করা হয়নি। কিন্তু এইটা কি আসলেই খুন,নাকি অন্য কিছু।তা কেওই আচঁ করতে পারেনি। আরো আপডেট জানতে চোখ রাখুন 'সময় টিভিতে'।
নিউজটা বসে বসে দেখলো রিয়াজ, আরিয়ান, শহিদুল, মাহি এবং সুমাইয়া। সবাই সোফায় বসে থাকলেও আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে। আর ওমনি সে লাফিয়ে উঠে।ব্যাগটা হাতে নিয়েই বলল," আমি আজই গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছি। এখানে আমরা মরতে আসিনি"। আরিয়ানের কথা শুনে রিয়াজ পিছনে তাকিয়ে বলল," অদ্ভুত কথা বলছিস। এতো বছর পর দাদুর বাসায় বেড়াতে এলাম। আরো ১০-১৫ দিন না থাকলে দাদু রাগ করবেনা?"। রিয়াজের কথার জবাবে আবার আরিয়ান বলল,
- আর কতদিন থাকবো। অলরেডি তো ৫ দিন হয়েই গেছে। তাছাড়া এই গ্রামে ভূত থাকে এইটা দাদুর মুখে প্রায়ই শুনতাম। আজ দেখলি তো,ভূত কিভাবে দুজনকে হত্যা করলো?
- হ,ওটা ভূত ছিলো নাকি জ্বীন ছিলো তুই জানিস?
- ঠাট্টা করিস না রিয়াজ। দুইটা লাশ।তাও আবার তাদের গায়ে আঘাত বা কাটাছেঁড়া নেই। সবচেয়ে বড় কথা ওরা নদীর কিনারায়। ভূতেরা নদীতে বেশি থাকে। না না,এইটা ক্লিয়ার এই গ্রামে ভূত আছে। তোরা থাক আর না থাক,আমি তো আজকেই ঢাকায় ফিরবো।
- দাদু কিন্তু কষ্ট পাবে আরিয়ান।
তখনি মাহি বলল,
একটা কাজ করলে কি হয়? চল আমরা সবাই ওই নদীর কিনারায় যাই।ক্যামেরা ফিটিং করে আসবো আর রাতে ভিডিও ফুটেজে ভূতকে ক্যামেরা বন্দি করবো।
( মাহির কথা শুনে আরিয়ান ভেঙ্গছি দিয়ে বলল)
- ভূতকে ক্যামেলা বন্ডি কলবো। বলাতেই সোজা। কাজে না। তোরা যা,আমি ঢাকাতেই চলে যাবো ফাইনাল।
ঠিক তখনি টিভিতে আবার নিউজ শুরু হলো," পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লার পশ্চিমে ৪ টা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী তাদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।আর নেই কাটাছেঁড়া। এইটাকে হত্যা বলা যায়না।তবে এইটাকে কি বলতে হবে, তা ভেবে পাচ্ছেনা কেউ।আরো আপডেট জানতে সময় টিভির সাথেই থাকুন।
নিউজটা শুনেই আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে রইলো সবাই। আরিয়ান হাত থেকে ব্যাগটা ফেলে স্থির হয়ে যায়। আবার হুট করে উঠে
((((বিঃদ্র- কপিবাজদের উদ্দেশ্যে বলবো। গল্পটা কপি করতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু লেখকের নাম আর গল্পের নাম পাল্টিয়ে পোষ্ট করলে আপনার একাউন্টে রিপোর্ট করা হবে। আর যদি গ্রুপ ব্যাতিত নিজেদের একাউন্টে আপলোড করেন,তবে আমার পাবলিক গ্রুপের লিংকও কাটতে পারবেন না। মনে রাখবেন,গল্পের নাম,লেখকের নাম,গ্রুপের লিংক এই তিনটার যেকোনো একটা কেটে কপি করলে কংগ্রাচুলেশনস, আপনি চোর। আপনার বিরুদ্ধে কড়া একশন নেওয়া হবে।))))
আরিয়ান হাত থেকে ব্যাগটা ফেলে স্থির হয়ে যায়। আবার হুট করে উঠে রিয়াজের হাত থেকে রিমোট কেড়ে নেয়। এরপর বলল," সময় টিভি আজ আমার সময়টাই খারাপ করে দিচ্ছে"। এ বলেই চ্যানেল পাল্টে দেয়।তখনি অন্য চ্যানেলে আরেকটা নিউজ," রংপুরের ধানিগুড়া গ্রামের ব্রিজের নিছে ২টা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে মরদেহের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই,আর নেই কোনো কাটাছেঁড়া। আপডেট জানতে চোখ রাখুন RTV তে।
এইবার যেনো রিয়াজ,আরিয়ান,মাহি,সুমাইয়া আর শাহিদুল।৫ জনই অবাক হয়। একই রকম খুন দেশের বিভিন্ন অঞ্চকে কিভাবে হতে পারে। আরিয়ান অবাক দৃষ্টিতে চ্যানেল আবার বদলে দেয়। প্রত্যেক চ্যানেলেই শুধু লাশ দেখাচ্ছে,আর সব কয়টার মৃত্যু একই রকম।অর্থাৎ কোনো আঘাত এবং কাটাছেঁড়া নেই। সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয় এই টপিকে। কেও লিখছে," এইটা কেয়ামতের আলামত "। কেও লিখছে, " এইটা কোনো ভাইরাস"। কেও কেও তো হ্যাসট্যাগ লাগিয়ে আপলোড করেছে," গজব পড়ছে গজব।দুনিয়ার অনৈতিক কাজের গজব পড়ছে মাইনষের উপর"।
এইভাবে নেট দুনিয়া কাপাচ্ছে এই টপিক। টিভিতে হুটহাট এসব লাশের খবর। সবার যেনো মাথার উপর দিয়েই যাচ্ছে,আসলে হচ্ছে কি।
এদিকে আরিয়ান,শহিদুল, মাহি,সুমাইয়া আর রিয়াজ বিষয়টা নিয়ে আলাপ করতে বসে। তারা ব্যাপারটা নিয়ে ঘাটার প্ল্যান করে৷
প্যারানরমাল নিয়ে কাজ তারা অনেক আগ থেকেই করে এসেছে। তাদের ধারণা এইটা কোনো অশরীরী হবে। যে এসব তান্ডব চালাচ্ছে। আর তখনি আরিয়ানের নাম্বারে তার মায়ের কল আসে। আরিয়ান কল রিসিভ করতেই তার মা ওপাশ থেকে কান্না করতে করতে বলতে লাগলো," বাবা আরিয়ান। আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে বাবা। তোর ভাইও মারা গেছে। তোর ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেছে। তার খুনটাও সেম। গায়ে কোনো আঘাত নেই আর নেই কোনো কাটাছেঁড়া"। মুহুর্তের মধ্যেই আরিয়ানের হাত থেকে ফোনটা পড়ে যায়। আরিয়ানের চোখের কোনায় জলপাত উত্তলন হতে থাকে। আরিয়ানের ভেঙ্গে পড়া দেখে বাকিরাও ভেঙ্গে পড়ে। আরিয়ান এইবার কড়া গলায় সবার উদ্দেশ্যে বলল," আমি এই খুনিকে বের করতে চাই"।
কিন্তু কথাটা বলার পরেই আরিয়ান কান্না শুরু করে। তার বড় ভাইয়ের মৃত্যু কিভাবে হয়ে গেলো।এইটা সে মানতেই পারেনা। সবাই আরিয়ানের কান্না থামাতে চেষ্টা চালাচ্ছে।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। The Death Book বইটা আরিয়ানের হাতে। মনোযোগ দিয়ে সে খোজার চেষ্টা চালাচ্ছে এই খুনের রহস্য৷ মাহি Blood Country বইটা পড়ে যাচ্ছে। আর রিয়াজ The Black book বইটা নিয়ে আছে। এই খুন সম্মন্ধে বইয়ের কোথাও কিছু পাওয়া যেতে পারে। তাদের প্যারানরমাল সম্মন্ধে কাজ শিখিয়েছিলো ডঃএলিসেন। লোকটার নাম যেমন অদ্ভুত, তার কাজগুলাও তেমন। এলিসেন পূর্ব অনেক বিপদের ইঙ্গিত বইয়ে লিখে রাখতেন। এবং সব ঘটনার ব্যাখ্যাও সে করতো।এই অব্দি সে ৭০০+ বই লিখেছে। আরিয়ান এই কাজে কখনোই সায় দেয়নি। বন্ধুদের সাথে শুধু সময় দিতো। আজ নিজের ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নিতে সেও এলিসেনের দেওয়া বই পড়তে থাকে।
রাত ২ টা পার হয়ে গেছে। টেবিলের উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে সবাই। কিন্তু ছোট একটা লাইটের নিম নিম আলোয় আরিয়ান বই পড়ে যাচ্ছে। এরকম জেদ আরিয়ান কখনো ধরেনি। নিজের মা'কেও বলেছে।সে ভাইয়ের খুনের বদলা নেওয়া ছাড়া বাড়িতে যাবেনা। বই পড়তে পড়তে রাত গভীর হয়ে যায়। প্রায় সাড়ে তিনটা বেজে যায়। রিয়াজ টেবিল থেকে মাথা তুলে আরিয়ানকে বলল," আরে এতো পাগল হলে চলবে? সকালে পড়? এইভাবে করলে তো তুই নিজেই অসুস্থ হয়ে যাবি। দেখ,তোর দেখায় সবাই টেবিলে কিভাবে শুয়ে পড়েছে"। রিয়াজ যেনো কথাগুলো কোনো মৃত ব্যাক্তিকে বলেছে। আরিয়ানের কানের মাছিও নড়েনি। রিয়াজ সবাইকে ডাকতে শুরু করে। ঘুমের তালে আলাভোলা হয়ে জেগে যায় সবাই। রিয়াজ চোখ কচলাতে কচলাতে বলল," রাত অনেক হয়েছে। আয় সবাই শুয়ে পড়ি"।
সবাই যার যার রুমে চলে যায়।কিন্তু আরিয়ান বইয়ের পাতা উল্টিয়ে যাচ্ছে। এই অব্দি এলিসেনের দেওয়া ৭৮ টা বই সে শেষ করেও ফেলেছে।
সকাল ৯ টা। মাহি গড়াগড়ি করে শোয়া থেকে উঠে। দেখে ওর শরীর অনেক ব্যাথা। রাতে টেবিলে বসেই ঘুমিয়ে যাওয়ায়,কোমরে ব্যাথা অনুভব করে। সুমাইয়ার ও সেম অবস্থা। ওরা দুজন উঠে রিয়াজদের রুমে আসে। রিয়াজ আর শহিদুল রুমে শুয়ে আছে। আরিয়ান নেই। মাহি দৌড়ে এসে দুজনকেই ডাক দেয়। ওরা মাহির ডাকে লাফিয়ে উঠে। মাহি চিৎকার দিয়ে বলল," আরিয়ান কোথায়?"। রিয়াজ সহ সবাই লাফিয়ে উঠে দৌড়ে যায় পড়ার টেবিলের রুমে। গিয়ে দেখে,নিছে কয়েকশত বই পড়ে আছে,আরিয়ান আরেকটা বই অলরেডি পড়া শুরু করেছে। রিয়াজ বিরক্ত হয়ে ওর কাছে গিয়ে বলল," তুই কি পাগল হয়ে যাচ্ছিস? এইভাবে তো মরেই যাবি। এক রাতে এতো বই কিভাবে পড়লি। আর নিজের শরীরটাও তো ভাল থাকবেনা"। আরিয়ান কোনো জবাবই দিচ্ছেনা। সে যেনো ঢুবে গেছে বইয়ের পাতায়। তার এই খুনের রহস্যের ব্যাখ্যা বের করাই লাগবে। তখনি আরিয়ানের নাম্বারে আরেকটা কল আসে। আরিয়ান ফোনের দিকে তাকাচ্ছেই না। শহীদুল ফোন রিসিভ করে লাউডস্পিকারে দেয়। ওপাশ থেকে আরিয়ানের বাবা কান্না করে বলে যাচ্ছে," গতকাল রাতে তোর মা মরে গেছে আরিয়ান।শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই আর কাটাছেঁড়াও নেই।লাশ পাওয়া গেছে রাস্তার পাশে"। আরিয়ান কথাটা শুনেই হাত থেকে এইবার বইটা টেবিলে রেখে দেয়। সবাই আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। আরিয়ান হটাৎ বইটা দেওয়ালে ছুড়ে মেরে জোরে জোরে চিৎকার দিতে লাগলো। রিয়াজ ধরতেই যাবে,তখনি আরিয়ান বসা থেকে উঠে চেয়ারটা ধরে। এরপর সজোরে জানালায় নিক্ষেপ করে। জানালার কাচ ভেঙ্গে চুরচুর হয়ে যায়। আরিয়ান যেনো পাগল হয়ে গেছে। আরিয়ানের পাগলামি দেখে সবাই তাকে থামানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।এদিকে মাহির ফোনেও আরেকটা কল এসেছে। সেখানে মাহির বোনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় মাহির মা।আর মাহির বোন মোহনার মৃত্যুও সেম,গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই,আর নেই কোনো কাটাছেঁড়া।
মাহির সংবাদে এখন আরিয়ানও চুপ হয়ে গেছে। সবাই মাহির দিকে তাকিয়ে আছে। আর শুরু হয়ে গেছে মাহির কান্না। সুমাইয়া আর শহিদুল এসে মাহিকে শান্তনা দিচ্ছে। আরিয়ান টেবিলের এক কোনায় বসে আছে। রিয়াজ জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে। সব কিছু মুহুর্তের মধ্যেই নিরব হয়ে গেল।
হুটহাট এমন ঘটনা যেনো পুরো বাংলাদেশকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। নেই কারো কোনো রহস্য উন্মোচন করার পথ। চারদিকে শুধু মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে। মৃত্যু মৃত্যু মৃত্যু শব্দটা শুনতে শুনতে ভালো মানুষ গুলাও নিজেদের মৃত ভাবতে শুরু করে দেয়। কারণ সবাই ভেবেই নিচ্ছে যে, তারাও হুট করে খুন হয়ে যাবে,আর তাদের দেহে থাকবেনা কোনো আঘাতের চিহ্ন এবং নেই কোনো কাটাছেঁড়া।
সবার মাঝেই হুট করে আরিয়ান বলে উঠে," গতরাতে বই পড়তে পড়তে আমার চোখে একটা জিনিস আটকে যায়"। আরিয়ানের কথা শুনে সবাই আরিয়ানের দিকে তাকায়। এদিকে আরিয়ান হাতের আঙ্গুল উপরে তুলে কি যেনো ভেবে যাচ্ছে। মাহি,সুমাইয়া, শহিদুল এবং রিয়াজ।চারজনই আরিয়ানের চারপাশে ঘিরে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ পর আরিয়ান বলল," কোন বইতে যেনো লেখা ছিলো একটা লাঠির এমন এক শক্তি আছে।যা দিয়ে কয়েক সেকেন্ডে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া যায়। এবং এই লাঠির মাঝেই একটা অশরীর জীবন আটকে থাকবে। যে অশরীরী অনেক ভয়ংকর হবে"। আরিয়ানের কথা শুনে সবাই ওর দিকে অন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।তারা যেনো কিছুই বুঝেনি। রিয়াজ বলল,
- মানে আমরা বুঝিনি।ক্লিয়ার করে বল।
( রিয়াজের প্রশ্নে আরিয়ান আবার বলতে শুরু করে)
- এই খুনগুলো কিন্তু এক জায়গায় হচ্ছেনা। একটু ভেবে দেখ।পুরো দেশ জুড়েই এই খুনগুলো হচ্ছে। আমার কেন যেনো মনে হচ্ছে ঐ বইয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সব। আমার খুব বেশিই মনে হচ্ছে লাঠি আর অশরীর ঘটনার সাথে এই খুনগুলা সংমিশ্রণ।
- এমনও তো হতে পারে অশরীরীটার অনেক বড় দল।সে তার দল দিয়ে পুরো দেশে তান্ডব চালাচ্ছে।
- হ্যাঁ রিয়াজ,সেটাও হতে পারে।কিন্তু আমার মন বার বার বলছে এই লাঠি আর অশরীর সাথে বর্তমান ঘটনাটা মিল আছে। আচ্ছা এক কাজ করলে কি হয়। আমরা সবাই মিলে বইটা আবার খুজে বের করি৷ ঐ বইতে হয়তো এমন কিছুও লেখা আছে,যার মাধ্যমে আমরা কোনো সূত্রপাত বের করতে পারবো৷
- ওকে,বইয়ের নাম কি।
- শিট, আমার মনে নেই। সারারাত একটার পর একটা পড়েই গেছি। বইয়ের নাম মুখস্থ কিভাবে রাখি। এখানেই আছে কোথাও,সবাই একটা একটা করে বই পড়তে শুরু করি, যেগুলো নিচে পড়ে আছে আরকি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তো পেয়ে যাবো।
আরিয়ানের কথামতো সবাই নিচ থেকে একটা একটা বই হাতে নেয়। ৫ জন ৫ টা বই নিয়ে পড়তে শুরু করে।বের করার চেষ্টা চালায় আরিয়ানের মুখ থেকে শুনা বইটা৷
এদিকে একটার পর একটা বই সবাই পড়েই যাচ্ছে। মাহি আবার মাঝখানে বিরতি নিয়ে সবার জন্য খাবার প্রস্তুত করে। এইভাবে প্রায় দুপুর শেষে বিকেল ঘনিয়েছে। কিন্তু ওমন লেখা কোনো বই কেও পায়নি। বাকিগুলো পড়তে পড়তে সন্ধা হয়ে গেছে। আরিয়ান সহ বাকিরা এখন আরো পাগল হয়ে যাচ্ছে। রিয়াজ আরিয়ানকে বলল,
- তোর ঘটনার সাথে মিল রেখে তো কেওই কোনো বই পেলো না।
- সেটা তো আমিও ভাবছি। এখন তো মনে হচ্ছে এখানে আরো রহস্য আছে। নয়তো বইটা এইভাবে গায়েব হয়ে গেলো কেন।এখানেই তো থাকার কথা।
- হুম,রহস্য আছেই।আমি কিছুটা বুঝতে পারছি।
- আমাদেরকেও বল..?
- হতে পারে তুই পড়তে পড়তে ঘুমাই গেছিলি। আর স্বপ্নে ঐ লাঠি এবং অশরীরীকে দেখেছিস৷
- আরে না, আমি শিওর আমি ওটা কোনো বইয়ে পড়েছি। আর কাল রাতেই পড়েছি।
- ওইতো,বই পড়তে পড়তে স্বপ্নেও বই পড়ছিস। এইটা সাধারণ মানুষের মধ্যে হয়েই থাকে। যখন আমাদের চোখ ভর্তি ঘুম থাকে এবং আমরা জেগে থাকার চেষ্টা করি। তখন আমাদের মস্তিষ্কে চাপ বেড়ে যায়। আর এতে হ্যালুসিনেশন হতে পারে।
- হ্যালুসিনেশন? কিন্তু আমার তো ঘুম পাচ্ছিলোনা। তারমানে মস্তিষ্কে চাপ যায়নি। তো আমার কেন হ্যালুসিনেশন হবে।
- হ্যালুসিনেশন হল একটি প্যাথলজিকাল কন্ডিশন। এটি একটি অস্বাভাবিক অনুভূতি। অনুভূতি সাধারণ এবং সত্যের মত হলেও এর কার্যাবলি ও উপস্থিতি সকল ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক ও অসংগতিপূর্ণ যা একেবারেই সুখের নয়। এখন তোকেও সেটির চাপ নিতে হচ্ছে। মাত্রাধিক চিন্তা আর ঘুমের ঝোক।হ্যালুসিনেশন না হবার কারণই নেই।
- হতে পারে। কিন্তু এইটাও তো প্রশ্ন আসে। আমি সেই লাঠি আর অশরীরীকে কেন দেখলাম? নিশ্চয়ই এইটাও কোনো ক্লু। হ্যালুসিনেশন হলেও এইটা বাস্তব ঘটনার সাথে মিল খাচ্ছে।
- এখন কি চিন্তা করলি।
- কেনো আমার এই হ্যালুসিনেশন হয়েছে তার পিছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। আমি চাই এই লাঠির সন্ধানে নামতে। বারবার মনে হচ্ছে কোনো না কোনো ক্লু পাবোই আমরা।
- ঠিক আছে। তোর যা ইচ্ছে। হতে পারে এতে আমরা সে অশরীরীকেও ধরতে পারবো। আপাতত হাতে তো অন্য কোনো ক্লু নেই। যা আছে,তা নিয়েই নেমে যাই মাঠে।
- ধন্যবাদ রিয়াজ। তবে আমি সেই অশরীরীকে পেলে এমন শাস্তি দিতে চাই। যা সে কল্পনাও করতে পারবেনা।
- ঠিক আছে। চল তাইলে,আমরা দাদুর কবরে গিয়ে জিয়ারত করে আসি। এই গ্রামে তো আর বেশিদিন নেই আমরা। দাদুর আত্মা যাতে শান্তি পায়।তা তো করতেই হবে।
এ বলে রিয়াজ,আরিয়ান, শহিদুল, মাহি এবং সুমাইয়া রওনা হয়। সন্ধ্যা হয়ে গেছে।কিন্তু তাদের দাদুর কবরটাও বেশি দূরে নেই।গ্রাম হলেও রাস্তার পাশে সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম লাইট লাগানো( ল্যাম্পপোস্ট) । গ্রামও আজকাল উন্নত হচ্ছে। কিন্তু দাদুটা আসলেই কার। এবং দাদু তো অনেক আগেই মারা গেছে। তবে কেনো দাদুর শান্তির জন্য তারা এখানে এসে থাকছে। চলুন, রিয়াজরা কবরস্থান যেতে যেতে আমি আপনাদের দাদুর কাহিনিটা বুঝিয়ে দিচ্ছি।
রিয়াজ হচ্ছে এতিম। যার এই দুনিয়াতে কেও নেই। এতিম খানায় বড় সে। যখন তার ১২ বছর হয়েছে।তখন এতিম খানায় একটা বৃদ্ধ লোক এসে রিয়াজকে কিনে নেয়। এবং তিনি রিয়াজকেই কেনো কিনলো,তার পিছনেও ছিলো একটা রহস্য। সেটা নাহয় সামনে জানতে পারবেন।
রিয়াজকে বাড়িতে আনার পর বৃদ্ধ লোকটা রিয়াজকে বলেছে,তার পরিবারেও কেও নেই। তিনিও সম্পুর্ন এতিম। তিনি চায় রিয়াজকে তার নাতনি বানিয়ে বড় করতে। যাতে উনার মৃত্যুর পর এই সম্পদগুলো কোনো সরকারি কর্মকর্তার হাতে দখল না হয়। এরপর থেকেই রিয়াজ পেয়ে যায় একটা ঠিকানা।সব সম্পত্তি দাদু রিয়াজের নামে করে দেয়। রিয়াজ বড় হতে থাকে এই গ্রামে। স্কুল শেষ করে যখন রিয়াজ ঢাকায় পড়াশুনা করতে যাচ্ছিলো। তখন তার দাদু সারারাত কান্না করেছে। রিয়াজকে এক নজর না দেখলে যেনো উনার ঘুমই ধরেনা। তাই তিনি রিয়াজকে পাঠানোর আগে ডঃএলিসেনকে ডাক দেয়। ডঃএলিসেন রিয়াজের দাদুর খুব কাছের বন্ধু। আর এলিসেন প্যারানরমালের পিছনে তার সারাটা জীবন সপে দিয়েছেন। ডঃএলিসেন এমন এক ম্যাজিক জানে। যার দ্বারা সে দূরের মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলতে পারে। আর এইটার জন্য তিনি একটা ফুল ব্যাবহার করেন। যে ফুলের ঘ্রাণ নিতে নিতে যার চেহারা কল্পনা করা হবে। তার সামনে চলে যেতে পারে।তবে দেহ দেখা গেলেও থাকবে বাতাসের মত। অর্থাৎ স্পর্শ করা যাবেনা,কিন্তু সবি দেখা যাবে। এখানে আবার আরেকটা কথা। যে দেখতে চায়,বা যার সামনে যাবে।তার কাছেও এই ফুল থাকতে হবে। তাই এলিসেন রিয়াজকে একটা,এবং তার দাদাকে একটা ফুল দেয়। যার দ্বারা রিয়াজ ঢাকায় পড়াশুনা করলেও, তার দাদু তাকে যখন মন চাইবে দেখতে পারবে। যদিও সেই সময় ভিডিও কলের সিস্টেম ছিলো না। আর না ছিলো স্মার্ট ফোন। রিয়াজ ঢাকায় যাবার পর প্রতিদিন তার দাদুর সাথে এই ফুলের দ্বারা কথা বলতো। এর মাঝেই কলেজে রিয়াজের সাথে পরিচয় হয় আরিয়ান,মাহি,শহিদুল এবং সুমাইয়ার। ওরা বিশ্বাসই করতে পারেনি একটা ফুলের ঘ্রাণ নিয়ে অন্য জায়গার মানুষের সামনে যাওয়া যায়। রিয়াজ সবাইকেই এই ফুল দিয়ে তার দাদুর সাথে কথা বলায়। এরপর ওরা রিয়াজের প্রতি আরো আকর্ষিত হয়ে যায়। এইভাবে চলতে লাগলো দিন। সবাই রিয়াজের দাদুকে ওদের দাদুর মতোই দেখে যাচ্ছিলো। দাদুর হয়ে যায় ৫ জন নাতনি। ওরা একদিন বায়না ধরে প্যারানরমাল নিয়ে পড়তে। এরপর তার দাদু এলিসেনের সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর থেকে এলিসেন তাদের প্যারানরমাল বিষয়ক অনেক কিছুই শেখাতে থাকে।কদিন পর পর ওরা গ্রামে আসে। এবং তার দাদুর সাথে ১০-১৫ দিন সময় কাটিয়ে যায়। কিন্তু বেশিদিন যায়নি।একদিন রিয়াজ ফুলের ঘ্রাণ নিয়ে যখনি তার দাদুর সাথে কথা বলতে চায়। তখনি ফুল থেকে পোড়া গন্ধ বের হতে থাকে। রিয়াজ সহ সবাই পাগল হয়ে সেদিনি গ্রামে আসে। আর এসে দেখে,রিয়াজের দাদু বিছানায় শুয়ে আছে। রিয়াজ দৌড়ে তার দাদুর কাছে যায়,তার দাদু কান্না করে করে বলেছে,তার শরীরের শক্তি শেষ। তিনি বিছানা থেকে উঠে ফুলটা নিতে পারেনি। তাই দেখা করতে পারেনা অদৃশ্য হয়ে। ৫ জনই প্রচুর কষ্ট পেতে থাকে। এইভাবে ৩ দিন কেটে যায়। কিন্তু ৪ দিনের মাথায় হুট করে একদিন রিয়াজের চিৎকারে সবাই ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে। সবাই দৌড়ে যায় দাদুর রুমে। চিৎকারটা দাদুর রুম থেকেই আসে। সবাই গিয়ে দেখে,রিয়াজ তার দাদুর পাশে বসে " দাদু প্লিজ উঠো,প্লিজ দাদু উঠো।তোমাকে ছাড়া আমি কিভাবে থাকবো দাদু।আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি দাদু,আমাকে এইভাবে ছেড়ে যেতে পারোনা দাদু। দাদুউউউ" বলে চিৎকার মেরে কান্না শুরু করে। সবার ততক্ষণে বুঝা হয়ে গেছে দাদু মরে গেছে। সাথে সাথে বাকিরাও কান্না শুরু করে।
পরেরদিন সকালে যখন তার দাদুর জানাযা হচ্ছিলো,তখন আরিয়ান খেয়াল করে এলিসেন আসেনি। ওরা জানাযা শেষ করে যখন এলিসেনের বাসায় যায়। তখন দেখতে পায়,এলিসেন বাড়িতে নেই। তবে টেবিলে একটা চশমা রাখা আছে। যেটা সম্মন্ধে এলিসেন তাদের আগেও বলেছিলো।তিনি বলেছিলেন, গোল্ডেন কালারের একটা চশমা যেদিন তারা পাবে,তখন যেনো চশমাটা এক আচাড় মেরে ভেঙ্গে ফেলে। এখন হটাৎ তাদের মাথায় সেই কথাটা চলে আসলো। রিয়াজ গিয়ে চশমাটা হাতে নেয়,এবং সজোরে আচাড় মেরে দেয়। তখনি রুমের মধ্যে একটা গায়েবি আওয়াজ শুনতে পায় তারা। যেটা সম্পুর্ন এলিসেনের কন্ঠ। সেখানে বলা হচ্ছিলো," আমার ঘরের পিছনে মাটির নিছে অনেক বই আছে। যেগুলো আমি আমার সকল অভিজ্ঞতার ব্যাখ্য লিখে রেখেছি। তোমরা মাটি খুড়লেই একটা বড় বক্স পাবে। সেই বক্স থেকে বই গুলা বের করে তোমাদের দাদুর বাসায় নিয়ে যাও। ভবিষ্যতে ঘটে যাওয়া বিপদের ইঙ্গিতও আমার বইয়ে লেখা আছে। তবে বই গুলা তোমাদের দাদুর বাসাতেই রাখো। অন্য কোথাও নিয়ো না। আর আমিও আর বেচে নেই। তোমার দাদুর হয়াতের উপর আমার বেচে থাকা নির্ভর ছিলো। তোমাদের দাদুর সাথে আমিও উপরে চলে গেছি। আমাকে আর পাবেনা তোমরা। তবে শেষ একটা কথা।তোমাদের দাদুর ইচ্ছে ছিলো,প্রতি বছরে একবার এসে দাদুর বাসায় থেকে যেতে।ঠিক এখন যেভাবে এসে ১০-১৫ দিন কাটিয়ে যাও সেইভাবে। নয়তো তোমাদের দাদুর আত্মা কষ্ট পাবে"। এইটার পর আওয়াজটা বন্ধ হয়ে যায়।দাদু এবং এলিসেন দুজনকে হারিয়ে,ওরা অনেকটাই হতাশ হয়। সবাই এলিসেনের কথামতো বই গুলা বের করে দাদুর বাসাতেই রাখে। আর বইয়ের উপরেই প্যারানরমাল বিষয়ে শিখতে থাকে।
একি! রিয়াজরা তার দাদুর কবরস্থানে চলে এসেছে। চলুন বর্তমান ঘটনায় ফিরে যাই।
ওরা কবস্থানে এসে কবর জিয়ারত করে নেয়। জিয়ারত শেষ করে যখনি ফিরতে যাবে,ঠিক তখনি সবাই খেয়াল করে,কবরস্থান থেকে কারো চিৎকারের শব্দ শুনা যাচ্ছে। এদিকে সবাই ভয় পেয়ে পিছনে তাকায়, আর যা দেখে,তা সত্যিই অকল্পনীয় ছিল।
ওরা দেখে,কবরস্থান থেকে তাদের দাদুর বন্ধু এলিসেনের মত একটা মানুষ তাদের দিকে ছুটে আসতে চাইছে। মানুষটার দেহ পুরো কালো ধোয়াশার মত। এই ধোয়া যুক্ত এলিসেন ছুটে আসতে চাইলেও, কবরস্থান থেকে কেও এলিসেনের পা ধরে রেখেছে।যেনো এলিসেন আসতে চাইলেও,আসতে পারছেনা। সবাই বেশ আতঙ্ক হয়ে উঠে। এলিসেরনের চিৎকার যেনো চিলের মত। ভয়ংকর ভাবে সে ডেকে যাচ্ছে। রিয়াজ,আরিয়ান,শাহিদুল,মাহি এবং সুমাইয়ার চোখ বড় হয়ে যায় নিমিষেই। কিন্তু হুট করেই,এলিসেনের ধোয়া যুক্ত দেহটা কেও টেনে কবস্থানে ঢুকিয়ে ফেলে। নিমিষে আবার সব ঠান্ডা হয়ে যায়।
এদিকে রিয়াজ,আরিয়ান,শাহিদুল,মাহি এবং সুমাইয়া কিছুই বুঝতে পারলো না। হটাৎ এমন হলো কেন। নিরবতার মাঝে আরিয়ান বলে উঠে,
- আমার মনে কেনো যেনো মনে হলো এলিসেন আমাদের কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে গেলো।
( আরিয়ানের কথা শুনে রিয়াজ জবাব দিলো)
- যেমন?
- আমার মনে হচ্ছে এলিসেন কিছুর ইঙ্গিত দিলো।
- কিন্তু কিসের
- সেটাই তো ভাবছি। এলিসেন ইঙ্গিত দিতে এসেছে, কিন্তু কেও তাকে আটকাচ্ছে। কে আটকাচ্ছে। আর কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাও আমাদেরই কেন দিচ্ছে,বিশাল একটা প্রশ্ন দাড় করাচ্ছে।
- সব কারণের পিছনে একটাই ব্যাপার। সেটি হচ্ছে বর্তমানে চলমান খুন।
- যাইহোক, বাসায় গিয়ে এ ব্যাপারে আলোচনা করা যাবে। চল সবাই।
রিয়াজ,আরিয়ান,শাহিদুল,মাহি এবং সুমাইয়া রওনা দেয় আবার বাসায়। টিভির সামনে বসে আছে রিয়াজ,আরিয়ান এবং শাহিদুল।সুমাইয়া আর মাহি খাবারের ব্যাবস্থা করে যাচ্ছে। টিভিতে একেকটার পর একেকটা খুনের নিউজ৷ সব খুন একই রকম। একি নিয়মে মৃত্যু হচ্ছে অহরহ, কিন্তু লজিক কারো মাথায় ঢুকছেই না। কাটা ছেড়া ছাড়া,কোনো রোগ ছাড়া,বডিতে আঘাতের চিহ্ন বা মেডিসিন ছাড়া মানুষ গুলো কেনো মরছে। সময় টিভির নিউজে দেখাচ্ছে,এই দুই দিনে প্রায় ৫ কোটির উপরে মানুষ মৃত হয়েছে।আরিয়ান তার মায়ের জন্য কান্না করেই যাচ্ছিলো। আর মাহিও অনেক মন মরা।
খাবারের পর রিয়াজ,আরিয়ান,শাহিদুল,মাহি এবং সুমাইয়া বাড়ির উঠোনে বসে আলাপ করছিলো। রিয়াজ বসা থেকে উঠে বলল,"আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে। তোরা রহস্য বের করার চেষ্টা কর। আমি গেলাম"। হুট করে রিয়াজের এমন আচরণ কারো কাছেই সুবিধের ঠেকলো না। রিয়াজ তো সবসময় কাজের মাঝে অনেক মন দেয়। মিশন সাকসেস হওয়া ছাড়া কখনোই ঘুমের নাম মুখে নেয়না। সবাই রিয়াজের দিকে তাকিয়ে রইলো,রিয়াজ দরজা দিয়ে বাসায় ঢুকার আগে পিছনে তাকিয়ে বলল," বাড়ির পিছনের কবরস্থানে একটু যা,কবরস্থানের পশ্চিমে যে আম গাছ আছে। ওটার নিছে মাটি খুড়লে কিছু পেতে পারিস"। এইটা বলেই রিয়াজ দরজা অফ করে দেয়। এদিকে আরিয়ান,শাহিদুল,মাহি এবং সুমাইয়া কিছুই বুঝতে পারলো না। ওরা একজন একজনের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ। এরপর এক দৌড় দেয় কবরস্থানের দিকে।
ওরা কবরস্থানে পৌছেই পশ্চিম পাশের আম গাছটা খুজে বের করে। এরপর আরিয়ান একটা গাছের খুটি গিয়ে মাটি খুড়তে লাগলো৷ মাটিতে খুটির আঘাত করার সাথে সাথেই খুটিটা অনায়াসে ঢুকে যাচ্ছে৷ অর্থাৎ এখানে একটা গর্ত আছে। যা কয়েকদিনের মধ্যেই করা হয়েছে। আরিয়ান খানিকটা গর্ত করতেই একটা বক্স পায়। বক্সটা টেনে বের করে উপরে তুলে নেয়। শাহিদুল বক্সটা খুলতেই দেখে,ভিতরে একটা বই। রাত,তার উপর চারপাশে চাদের আলো ছাড়া কিছুই নেই। তাই বই দেখা গেলেও নাম দেখা যাচ্ছেনা।মাহি নিজের ফোনের লাইট অন করে তখনি। আর দেখে,বইয়ে লেখা আছে," মুখোশের আড়ালে"। এরা সবাই বেশ অবাক হয়। আরিয়ান বইটা বের করতেই খেয়াল করে,বইয়ের উপরে ছোট করে এলিসেনের নাম লেখা। অর্থাৎ এইটা এলিসেনের আরেকটা বই,যা তারা আগে দেখেনি। সবাই মিলে সেখানেই বইটা পড়তে শুরু করে। বইয়ের প্রথমেই লেখা আছে," মুখোশের আড়ালে কেও একজন ঘুরে বেড়াবে। তারা থাকবে ৫ বন্ধু। এই ৫ বন্ধুর মধ্যে একজন হবে অশরীরী শক্তির মালিক। যার মধ্যে থাকবে রক্ত চোষার এক মায়াবী যাদু। সে মানুষের চোখের দিকে তাকিয়েই,দেহের ভিতরের সব শক্তি কেড়ে নিতে পারবে। আর অপর ব্যাক্তির শক্তি কেড়ে নিতেই, ভিক্টিম মারা যাবে। যার গায়ে থাকবেনা কোনো কাটাছেঁড়া, আর না থাকবে আঘাতের চিহ্ন"। প্রথম পাতার এই অংশটুকু পড়েই সবাই বুঝে যায়,এইটা আর কেও নয়। সব খুন রিয়াজ করে বেড়াচ্ছে। আরিয়ান আর মাহি রাগম্বিত হয়ে যায়। রিয়াজ কিভাবে তাদের পরিবারের মানুষকে মেরেছে। এতো বড় বিশ্বাসঘাতকতা কিভাবে করলো রিয়াজ। ভেবেই চোখ লাল করে ফেলে আরিয়ান। এরপর আরিয়ান দ্বিতীয় পাতা উল্টিয়ে দেখে অশরীরীকে শেষ করার সূত্র। সেখানে লেখা ছিলো," এই অশরীরীর দুনিয়াতে একজন বৃদ্ধ আপন ব্যাক্তি আছে। যার ব্যবহৃত লাঠির মাঝে লুকিয়ে আছে অনেক শক্তি। এই লাঠির দ্বারাই অশরীরী যেকোনো জায়গায় ১ সেকেন্ডে চলে যেতে পারে৷ আর এমন এক সময় আসবে,যখন সে পুরো দেশে হত্যাকাণ্ড চালাবে। কেড়ে নিবে অনেকের প্রাণ। এবং কি নিজের বন্ধুদের পরিবারকেও৷ যদি সেই লাঠিটা ভেঙ্গে ফেলা হয়।তবে অশরীরীটা মুহুর্তেই মৃত্যুবরণ করবে"।
ব্যস,আরিয়ান সাথে সাথে বইটা বন্ধ করে দেয়। শুধু আরিয়ান নয়,সবাই এক সাথে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে,আরো কয়েকটা খুন করার আগে তারা রিয়াজকে শেষ করে দিবে। রিয়াজ যে অশরীরী, তার তো বাচার অধিকার নেই। মুখোশের আড়ালে অনেক করেছে খুন। অবশেষে তার রুপ বেরিয়েই এলো।আরিয়ান,শাহিদুল,মাহি এবং সুমাইয়া দৌড়ে চলে আসে বাসায়। এসে দেখে রিয়াজ নেই। আরিয়ান আবার দৌড় দেয় দাদুর রুমে। আর দেখে,দাদুর বিছানার ঠিক সামনেই, লাঠিটা দাঁড়িয়ে আছে। যেনো জীবন্ত হয়ে আসে লাঠিটা। টেবিলে বইটা রেখে আরিয়ান গিয়ে লাঠিটার উপর যাদু চালাতে থাকে। যাতে লাঠিটা আরিয়ানের কন্ট্রোলে চলে আসে। এদিকে মাহি এবং শাহিদুলও যাদু প্রয়োগ করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর লাঠিটা আরিয়ানের সামনে এসে পড়ে। আরিয়ান চোখ বন্ধ করে লাঠিটা ধরে,আর সবাইকে ডাক দিয়ে বলল," সবাই আমার সাথে চলো"৷ এ বলেই আরিয়ান মন্ত্র পড়তে থাকে। এদিকে সবাই আরিয়ানের কাছে এসে দাঁড়ায়। তখনি চিৎ করে সবাই সেখান থেকে গায়েব হয়ে যায়।
চোখ খুলতেই ওরা নিজেদের আবিস্কার করে পুরান ঢাকার একটা গলিতে। যার দুই পাশে কয়েকটা লাইট নিম নিম করে জ্বলছে,আর সামনেই দাঁড়িয়ে আছে রিয়াজ। কিন্তু রিয়াজের পায়ের কাছে একটা মানুষ শুয়ে আছে। আরিয়ান কিছু বলার আগেই রিয়াজ মুচকি একটা হাসি দিয়ে পড়ে থাকা মানুষটার দিকে তাকায়। এরপর ঘটতে থাকে একটা ভয়ানক ঘটনা। যা নিজের চোখে দেখছে আরিয়ান,শাহিদুল,মাহি এবং সুমাইয়া। রিয়াজের চোখ পুরো লাল হয়ে গেলো। চারপাশে বাতাসের গতি বেড়ে যায়। গলির মধ্যে পড়ে থাকা পলিথিন গুলাও উড়াউড়ি শুরু করেছে। রিয়াজের চোখ দিয়ে লাল একটা আলো বের হতে লাগলো। রিয়াজের মুখে শয়তানি হাসি৷ রিয়াজের চোখ থেকে আলোটা বের হবার সাথে সাথেই নিছে পড়ে থাকা লোকটার শরীর থেকেও লাল আলো বের হতে লাগলো। ওরা সবাই বুঝে গেছে,রিয়াজ আরেকটা মানুষের দেহ থেকে শক্তি চুষে নিচ্ছে।অর্থাৎ এই লোকটাকেও হত্যা করতেছে।আচমকা পড়ে থাকা লোকটা যন্ত্রণায় চিৎকার দিতে লাগলো। রিয়াজ যেনো আরো বেশি লাল আলো বের করতে শুরু করে। আরিয়ান চিৎকার দিয়ে বলল," রিয়াজ থাম বলছি,নয়তো তোকে শেষ করে দিবো"। রিয়াজ আরিয়ানের কথা শুনে আরো বেশি চোখ থেকে লাল আলো বের করতে শুরু করে। আরিয়ান বার বার সতর্ক করে যাচ্ছে রিয়াজকে। রিয়াজ কিছুতেই থামছেনা। এরপর আরিয়ান জেদ করে লাঠিটা দুই হাতে দুই মাথা ধরে হাটুর সঙ্গে সজোরে একটা আঘাত করে। লাঠিটা প্রথম আঘাতেই ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। আর রিয়াজের চোখ থেকেও আলো কমতে শুরু করে। আরিয়ান সেই লাঠির দুই টুকরোটাও নিছে আঘাত করে ভাঙ্গতে শুরু করে। মাত্র ২০ সেকেন্ডেই রিয়াজের শরীর গায়েব হতে শুরু করে। আর ধীরে ধীরে সেখানেই রিয়াজের পুরো শরীর কালো ধোয়ায় পরিনত হয়। এরপর বাতাসের সাথে মিশে যায় রিয়াজ। অর্থাৎ মারা যায় সে। রিয়াজ মরার সাথে সাথেই নিছে পড়ে থাকা লোকটা লম্বা একটা শ্বাস নেয়। আরিয়ান সহ সবাই দৌড়ে গিয়ে দেখে লোকটা এখনো বেচে আছে। সবাই লোকটাকে ধরে কাধে নেয়। পাশেই একটা হসপিটাল আছে,সেই হসপিটালে ভর্তি করায় লোকটাকে।
কিছুক্ষণ পর..........
ডক্টর এসে জানায় লোকটা বেচে আছে। তবে সে সারাজীবন এর জন্য প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে। তার শরীরে কাজ কেন,হাটার মতোও শক্তি নেই। অর্থাৎ যে কদিন বাচে, বিছানাতেই কাটিয়ে দিতে হবে। এ বলে ডক্টর চলে যায়। আরিয়ান হসপিটালের দেওয়ালে একটা ঘুষি মেরে বলল," শালা এতোদিন আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। আমার বিশ্বাসই হচ্ছেনা এরকম একটা মানুষকে আমরা আমাদের বন্ধু বানিয়েছিলাম। শালা মরেছে ভালোই হয়েছে। নিজের পরিবারের খুনিকে নিজের হাতে মেরেছি ভেবেই আনন্দ হচ্ছে আমার"।
আপনাদের মনে নিশ্চয়ই অনেক প্রশ্ন জমা হয়ে গেছে। কিন্তু এই অজানা প্রশ্ন গুলোর উত্তরটা এই গল্পের মূল টপিক। চলুন পরেরদিন সকালে চলে যাই। হয়তো মিলে যাবে সব প্রশ্নের উত্তর।
আরিয়ান সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হতে যায়। লাঠিটা ভেঙ্গে ফেলেছিলো।তাই আর চোখের পলকে তারা কোথাও যেতে পারেনি। হসপিটালেরই একটা রুমে রাত কাটিয়ে দেয়। আরিয়ান ফ্রেশ হয়ে বের হতেই,চোখ পড়ে টেবিলের দিকে। সেই " মুখোশের আড়ালে "বইটা টেবিলের উপর কে যেনো রেখে গেলো। কিন্তু আরিয়ানের স্পষ্ট মনে আছে,গতকাল রাতে সে বইটা দাদুর রুমেই ফেলে এসেছিলো।
আরিয়ান চিন্তায় পড়ে,বইটা নিজে থেকে কিভাবে এখানে চলে এলো। এক পা দু পা এগিয়ে আরিয়ান বইটা হাতে নেয়। এরপর প্রথম পাতা উল্টিয়ে দেখে এসব তার পড়া।দ্বিতীয় পাতাও বাদ দিয়ে তৃতীয় পাতায় চোখ দেয় আরিয়ান। সেখানে লেখা ছিলো,
< সেই অশরীরী কাওকে বিনা কারণে হত্যা করবে না। সে অন্যায়ের সাজা দিতে থাকবে। এই অশরীরীর নাম হবে রিয়াজ। ছোট বেলায় সে এতিম এমনি হয়নি। সে নিজের চোখে দেখতো,তার বাবা রাতে বাড়ি ফেরার সময় সাথে করে একটা বেশ্যা টাইপের মেয়েকে বাসায় আনতো। তার মা এসব ব্যাপারে কথা বললে,রিয়াজের বাবা অনেক মারধর করতো৷ একদিন রিয়াজের বাবাকে দেখানোর জন্য রিয়াজের মা নিজেও একটা পর-পুরুষকে রুমে নিয়ে আসে। রিয়াজের বাবা বাসায় এসে এসব দেখেই প্রচুর রেগে যায়। আর শুরু করে যুদ্ধ। হাতের কাছে যা পেয়েছে তা দিয়েই মারতে শুরু করে রিয়াজের আম্মুকে। রিয়াজের আম্মু বুঝাতে চেয়েছিলো যন্ত্রণা কেমন।কিন্তু সম্পুর্ন নির্দোষ ছিলো সে৷ এইটা রিয়াজের বাবা বুঝার সময় নেয়নি। এক সময় ঘাড় ধরে ধাক্কা দিতেই রিয়াজের মা দেওয়ালের সাথে মাথায় আঘাত খায়। প্রচুর প্রেশার থাকায় মাথার মগজ বের হয়ে গেছিলো। বাড়িতে উপস্থিত আরেকজন যে ছিলো, সে সাথে সাথে পুলিশের কাছে কল দেয়। এদিকে রিয়াজের বাবা আইনের আওয়াতায় যায়,আর কদিন পর ফাসিও হয়ে যায়। অন্যদিকে রিয়াজের চাচারা রিয়াজের সম্পদ কেড়ে নিয়ে রিয়াজকেই এতিম খানায় ফেলে আসে৷ এরপর থেকে রিয়াজ হয়ে যায় এতিম। আর পরকীয়া ক্বারিদের বানিয়ে নেয় জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু। এসব রিয়াজের দাদু একদিন জেনে যায়। আর মৃত্যুর আগে তার দাদু রিয়াজকে নিজের লাঠিটা দেয়। এবং বলে দেয়,এই লাঠির দ্বারা রিয়াজ খবর পেয়ে যাবে কোথায় পরকীয়া হচ্ছে। এবং এক সেকেন্ডে সে ইচ্ছে করলে ৫ জন মানুষকে হত্যা করতে পারবে। এবং এই লাঠির দ্বারাই অন্যদের দেহ থেকে শক্তি চুষতে পারবে,তবে নিজেকে অশরীরী বানাতে হবে। এইটা ভেবে রিয়াজের দাদু আমাকে মেরে ফেলবে৷ অর্থাৎ আমি এলিসেন।হ্যাঁ, আমি এলিসেন কোনো মানুষ নয়। আমাকে বানানো হয়েছে। রিয়াজের দাদু আমাকে বানিয়েছে একটা অলৌকিক শক্তি দিয়ে। আর সেই শক্তি রিয়াজের দেহে প্রবেশ করিয়ে আমাকে তার দাদু ধোয়া রুপে কবরে নিয়ে যাবে। কিন্তু বড় কথা হচ্ছে,যেদিন রিয়াজ সব কয়টা অপরাধীকে মারতে পারবে। সেদিন সে নিজেও গায়েব হয়ে যাবে। কারণ প্রকৃত পক্ষে রিয়াজ তখন একটা অশরীরী মাত্র। তার প্রতিশোধ শেষে তাকে ফিরে যেতে হবে জ্বীনদের রাজ্যে >
আরিয়ান হাত থেকে বইটা ফেলে দিয়ে কান্না শুরু করে। আরিয়ানের কান্না শুনে বাকিরাও দৌড়ে আসে। আরিয়ান বইটা দেখিয়ে দেয়,আর বাকিরা পড়তে শুরু করে।
এলিসেনের এই বই রিয়াজ সেদিনই লুকায়,যেদিন আরিয়ান ঘুমের মাঝে একটু খানি পড়ে ফেলে। দেশের সব পরকীয়া সম্পর্ক ধ্বংস করার পর রিয়াজ নিজেই তার মৃত্যু বের করে দেয়। আপসোস, এই অশরীরী আর ফিরে আসবেনা। আবার হয়তো শুরু হবে,ঘরে ঘরে পরকীয়া।
*******সমাপ*******

0 Comments